তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ রুখতে কড়া পদক্ষেপ, রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন আইন’, জেনে নিন ১০ বড় নিয়ম

তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ রুখতে কড়া পদক্ষেপ, রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন আইন’, জেনে নিন ১০ বড় নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে কার্যকর হলো বহুচর্চিত ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘গুন্ডাদমন আইন’ নামে পরিচিত।

গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির নতুন সরকারের এই আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

নতুন আইনের প্রধান ১০টি দিক:

১. পুলিশের বিশেষ ক্ষমতা: কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পুলিশ কমিশনার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার-নির্ধারিত ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকরা যেকোনো সমাজবিরোধীকে আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। ২. বিনা বিচারেই আটক: এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের বদলে আটক রাখা সম্ভব হবে। ৩. আটকের সময়সীমা: সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোনো সমাজবিরোধীকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। ৪. আপিলের সুযোগ: আটক ব্যক্তি চাইলে নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য সরকার-নির্ধারিত কমিটি বা কমিশনের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। ৫. জরিমানার কড়াকড়ি: কমিশনের নির্দেশে প্রকৃত ক্ষতির চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা আদায় করা হতে পারে। ৬. অপরাধের পরিধি: বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি, বৈধ ব্যবসায় বাধা, বেআইনি জমি দখল এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এই আইনের আওতায় পড়বে। ৭. প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা: বেআইনিভাবে খনি, বালি, পাথর উত্তোলন কিংবা বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করলে তাকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য করা হবে। ৮. ‘গুন্ডা’র সংজ্ঞা: কোনো ব্যক্তি নিজে অথবা কোনো গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে অভ্যাসগতভাবে অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত থাকলে, তাঁকে আইনের সংজ্ঞায় ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ৯. অন্যান্য আইনের প্রয়োগ: অস্ত্র আইন, মাদক আইন, বিস্ফোরক আইন কিংবা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার গুরুতর ধারায় যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধেও এই আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ১০. রাজনৈতিক বিতর্ক: সরকারের দাবি, এই আইন তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ খতম করবে। তবে বিরোধী দলের একাংশের আশঙ্কা, এই আইনের আড়ালে সরকার-বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেও দমন করা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *