বকেয়া না মেটালে জেলে বাগান মালিক, কড়া হুঁশিয়ারি শ্রমমন্ত্রীর

বকেয়া না মেটালে জেলে বাগান মালিক, কড়া হুঁশিয়ারি শ্রমমন্ত্রীর

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিতে বাগান মালিকদের জন্য এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটালে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের জেলে পাঠানো হবে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।

রবিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, মন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, নিশীথ প্রামাণিক, সাংসদ মনোজ টিয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি, বিজেপি প্রভাবিত ৩৫টি চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু:

  • পরিস্থিতি: বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় প্রায় ৩০-৩৫টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে এবং ১৮-২০টি বাগান রুগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত।
  • অভিযোগ: সচল শতাধিক চা বাগানের মধ্যে প্রায় ৩০টি বাগানের মালিকের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি, বেতন ও বোনাস বকেয়া রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
  • শ্রমিক সংগঠনগুলোর ক্ষোভ: শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, বিগত দিনে অনেক রুগ্ন বাগানের দায়িত্ব শিল্পপতিদের দেওয়া হলেও তারা শ্রমিকদের পাওনা আত্মসাৎ করেছেন। পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে দাবি করেছেন তারা।

মন্ত্রীর কড়া বার্তা:

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, “আগের সরকারের আমলে শ্রমিকদের বঞ্চিত করে এক শ্রেণির পুঁজিপতিরা ফায়দা লুটেছে। আমি বাগান মালিকদের এক মাস সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে না ফেললে জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখুন।” যে সমস্ত মালিক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের প্রতিও মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি—সরকার এখন আর কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করবে না।

ভবিষ্যতে চা শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে বিশেষ ‘টি এক্সপো’ আয়োজন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *