মাদ্রাসায় নিয়োগ নিয়ে বড় ধাক্কা, ৩৫০টিরও বেশি পিটিশন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত ৩৫০টিরও বেশি মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই রিট পিটিশনগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি বা ‘মেরিট’ নেই।
জানা গেছে, প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য ৩৫০টি আবেদনের মধ্য থেকে ১৩টি মামলাকে বিস্তারিত শুনানির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যদি এই ১৩টি আবেদনের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে বাকিদের কথাও শোনা হবে। কিন্তু শুনানির পর দেখা যায়, আবেদনকারীরা আদালতকে তাদের দাবির স্বপক্ষে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ওই ১৩টিসহ সমস্ত আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি সুপ্রিম কোর্টের এই রায় এমন এক সময়ে এল, যখন রাজ্যে খারিজি মাদ্রাসাগুলোর ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের ১২টি জেলার খারিজি মাদ্রাসাগুলোতে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সরকারি সিলেবাস পড়ানো হচ্ছে কি না বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মিলছে কি না—এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন সরকারি আধিকারিকরা। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই পরিদর্শন শেষ করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে নবান্নে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ২০০২ সালের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সম্প্রতি দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী মাদ্রাসাগুলো নিয়ে সেই সময় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি সরাসরি খারিজি মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ওই মন্তব্য নিয়ে তৎকালীন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। পরে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি মূলত এই মাদ্রাসাগুলোকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়ে আসার কথা বলেছিলেন।