রাম মন্দিরে অনুদান চুরির জের! টাকা গুনবে বিশেষ দল, পাহারায় প্রাক্তন সেনা

অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্সে জমা পড়া বিপুল অর্থের নিরাপত্তায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। সম্প্রতি অনুদান ও পূজাসামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেই নড়েচড়ে বসেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের দান করা প্রতিটি পয়সার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর কড়া নজরদারিতে চালু হল অনুদান গণনার নয়া ‘মডেল’।
কী এই নতুন গণনা ব্যবস্থা?
গত এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর, রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন মডেল কার্যকর করা হয়েছে। আগের সমস্ত গাফিলতির রাস্তা বন্ধ করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সাজানো হয়েছে এই ব্যবস্থা:
- দুই শিফটে কাজ: এখন থেকে প্রতিদিন দুটি শিফটে টানা নগদ টাকা গোনা হবে। প্রথম শিফট চলবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
- বিশেষ টিম গঠন: প্রতিটি শিফটে ১০-১২ জন কর্মীর একটি বিশেষ দল কাজ করবে। গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন চারজন সুপারভাইজার।
- নজরদারিতে প্রাক্তন সেনাকর্মীরা: নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে রাজি নয় ট্রাস্ট। গণনার দৈনিক রিপোর্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন সেনাকর্মী তথা নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন কে. কে. তিওয়ারিকে। তাঁকে সাহায্য করবেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষা কর্মী এস. পি. দুবে এবং শেষমণি তিওয়ারি।
হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি?
গত জুন মাসে মন্দিরের অনুদান নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এরপরই উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনার পরই দ্রুত স্বচ্ছতা ফেরাতে শোভনাথ মিশ্রের কাঁধে গণনা প্রক্রিয়ার নতুন দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাম ভক্তদের দান করা অর্থের হিসেবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও গরমিল না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এসবিআই-এর কড়া তত্ত্বাবধানে এই নতুন মডেল চালু করা হয়েছে।