শহিদ-তহবিলে কারচুপির অভিযোগ! জবাব এড়িয়ে একুশের মঞ্চে নিজের সাংসদ-বিধায়ক খুঁজলেন মমতা

শহিদ-তহবিলে কারচুপির অভিযোগ! জবাব এড়িয়ে একুশের মঞ্চে নিজের সাংসদ-বিধায়ক খুঁজলেন মমতা

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে চ্যাটার্জি কমিশনের বিস্ফোরক রিপোর্ট নিয়ে একেবারে ‘স্পিকটি নট’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! উলটে তারামণ্ডলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে বসে দলের অবশিষ্ট সাংসদ-বিধায়কদের সংখ্যা মেলাতেই ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল তাঁকে। বিশ্বস্ত সঙ্গীদের শিবির বদলের আবহে মমতার এই নীরবতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • রিপোর্ট নিয়ে মুখে কুলুপ: একুশে জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ায় কারচুপি হয়েছে—সোমবার বিধানসভায় জাস্টিস চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট তুলে ধরে এমনই অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কমিশনের সুপারিশ ছিল নিহতদের ২৫ লক্ষ ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার, কিন্তু অভিযোগ—তৃণমূল সরকার দিয়েছে যথাক্রমে মাত্র ২ লক্ষ এবং ১৫ হাজার টাকা। এদিন শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি মমতা।
  • তোপ দাগল ঋতব্রত শিবির ও কংগ্রেস: মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে কমিশনের রিপোর্ট চেপে দেওয়ার অভিযোগে মমতাকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য ও শুভঙ্কর সরকারও এই ইস্যুতে তদন্তের দাবি তুলেছেন।
  • মঞ্চে সাংসদ-বিধায়কের হিসেব: অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্রদের মতো একসময়ের ছায়াসঙ্গীরা এখন ঋতব্রত শিবিরে। লোকসভার ২০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভার ৪ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন। এই ভাঙনের মাঝেই এদিন মঞ্চ থেকে নিজের সাংসদদের খোঁজ করতে দেখা যায় মমতাকে।

কী বললেন নেত্রী?

বক্তব্যের শেষদিকে দলের অবশিষ্ট শক্তির হিসেব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগে তো আমরা দু’জন এমপি ছিলাম। এখন তো ১৬-১৭ জন আছে। কোনও চিন্তা নেই।” এরপরই দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা, “সাহস থাকলে আমার সঙ্গে থাকবেন। না হলে বিজেপির স্পনসরড টিমের সঙ্গে না থেকে সরাসরি বিজেপিতে চলে যাবেন।” একইসঙ্গে নিজেদের শিবিরকেই ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শহিদ পরিবারকে বঞ্চনার মতো গুরুতর অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে মমতা কি প্রকারান্তরে কমিশনের রিপোর্টকেই মান্যতা দিলেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *