সন্তানদের নতুন জামা আর দেওয়া হল না! সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু জলপাইগুড়ির ৯ চা-শ্রমিকের

সন্তানদের নতুন জামা আর দেওয়া হল না! সিকিমে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু জলপাইগুড়ির ৯ চা-শ্রমিকের

স্থায়ী কাজের অভাব। তাই বাড়তি উপার্জনের আশায় জলপাইগুড়ির চা-বাগান ছেড়ে সিকিমের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেটাই যে কাল হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ। সিকিমে নির্মীয়মান সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের জেরে মর্মান্তিক মৃত্যু হল অন্তত ১১ জন শ্রমিকের। এদের মধ্যে ৯ জনই বাংলার জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ডুয়ার্সের চা-বলয়ে।

কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? টানা বৃষ্টির পর মঙ্গলবার আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হওয়ায় কাজের খোঁজে চালসা, নাগরাকাটা থেকে সিকিমে পাড়ি দিয়েছিলেন বহু শ্রমিক। সেখানেই একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। আচমকাই সেই সুড়ঙ্গ ধসে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বীণাপাণি ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পরিস্থিতির তদারকি করতে সিকিমে পাঠানো হয়েছে ডিএসপি পদমর্যাদার এক আধিকারিককে।

পরিবারে স্বজন হারানোর কান্না: মৃতদের মধ্যে রয়েছেন মেটেলি ব্লকের কিলকোট চা-বাগানের গ্যাব্রিয়েল টিগ্গা (২৬)। মাত্র চারদিন আগেই রথের মেলা ঘুরে সিকিমে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। দাদাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, সব ঠিক আছে। মঙ্গলবার তাঁরই মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছয় বাড়িতে।

একই বাগানের বাসিন্দা বিকেসোর ওঁরাও (৩৫) গিয়েছিলেন তিন সন্তানের জন্য নতুন জামা কেনার টাকা জোগাড় করতে। মঙ্গলবার সকালে চা-বাগানে কাজ করার সময় স্বামী বিকেসোরের মৃত্যুর খবর পান স্ত্রী দেবীকা। সোমবার দুপুর থেকেই স্বামীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তিনি।

মৃতদের তালিকায় রয়েছেন কারা? কিলকোট বাগানের গ্যাব্রিয়েল ও বিকেসোর ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে শিবা মুন্ডার (৩১)। এছাড়াও মৃতদের তালিকায় রয়েছেন—

  • অমিত লাল গোরে (৩২) – নাগেশ্বরী চা-বাগান
  • শ্যাম ওঁরাও (২৮) – ইনডং চা-বাগান
  • অর্জুন সাঁওতাল (৩০) – গ্রাসমোর চা-বাগান
  • আনন্দ টোপ্পো (২৮) – সুখানি গ্রাম
  • বলো ওরাও (৩৪) – শুল্কাপাড়া গ্রাম
  • আদেশ ওঁরাও (২৬) – বানারহাট-বিন্নাগুড়ি

বিপর্যস্ত সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করে মেটেলি অঞ্চলের রাকেশ মাঝি ও নিসান ওঁরাওকে নামচি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: খবর পেয়েই মঙ্গলবার মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মেটেলি ব্লকের বিডিও এবং আইসি। মৃতদের বাড়িতে যান স্থানীয় বিজেপি নেতারাও। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। মন্ত্রী বিশাল লামা এবং নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরাদের একটি দল ইতিমধ্যেই হেলিকপ্টারে করে সিকিমে পৌঁছেছেন। প্রশাসনের অনুমান, এই প্রকল্পে জলপাইগুড়ি জেলার শতাধিক শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *