দল কি শুধুই রক্তের সম্পর্কের জন্য? মমতাকে তোপ কল্যাণের

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দানা বাঁধা অন্তদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে এল। গত মঙ্গলবার তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত দলের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় নির্ধারিত সময়সীমা পার করে দীর্ঘক্ষণ বক্তৃতা দেওয়ায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর তা ঘিরেই তৈরি হয় তীব্র অস্বস্তি। নেত্রীর এই নির্দেশেই দৃশ্যত ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে পড়েন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকেই শুরু হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন পরের দিন অর্থাৎ বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকেও বজায় থাকে।
একুশের মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবারের শহিদ দিবসের মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট ধরে বক্তব্য রাখছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় এবং অন্যান্য বক্তাদের সুযোগ দিতে অসুবিধা হওয়ায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ভাষণ দ্রুত শেষ করার কথা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই কথা শোনার পরেই দৃশ্যত অসন্তুষ্ট হন কল্যাণ। তিনি কিছুটা ক্ষুব্ধ অবস্থাতেই নিজের বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন এবং সভাস্থল ছেড়ে সোজা কালিকাটের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল বক্তব্য শুরু হওয়ার আগেই তাঁর এহেন প্রস্থান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব নিয়ে উষ্মা ও খোঁচা
পরের দিন দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কল্যাণ। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “অভিষেক অত বড় নেতা, কেন ২১ জুলাইয়ের আগে জেলায় জেলায় ঘুরল না? দিদি চাইলে শুধু অভিষেককে নিয়ে থাকুক। কোটি কোটি লোকের জন্য দিদি নেত্রী হয়েছেন, কোনও রক্তের সম্পর্কের জন্য হননি।”
দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে কল্যাণ আরও বলেন যে, শুধু ‘অভিষেক অভিষেক’ করলে দলে সমস্যা তৈরি হয়। তাঁর বক্তব্য, “আমার জায়গা চলে যাচ্ছে, এই যদি কেউ ভাবে তা হলে সব শেষ। দিদিকে বুঝতে হবে, উনি দল করছেন, বুঝতে না পারলে উনিই দল শেষ করবেন।” একসময়ে দলের দুর্দিনে নিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রবীণ এই সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি অন্য কোনো বিদ্রোহী বিধায়ক বা গোষ্ঠীর মতো নন; বরং নেত্রীর সুসময়ের চেয়েও তাঁর দুঃখের দিনেই তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। তবে একুশের মঞ্চের এই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও পরবর্তীতে দিল্লির এই বিস্ফোরক মন্তব্য যে তৃণমূলের অন্দরের ফাটলকে আরও চওড়া করল, তা বলাই বাহুল্য।