সংসদে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক: বিরোধীদের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রের, মুখোমুখি অবস্থানে শাসক-বিরোধী

বর্ষাকালীন অধিবেশনের চতুর্থ দিনে প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ চত্বর। অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দুই কক্ষেই হট্টগোল শুরু হওয়ায় অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে চলমান প্রশ্নফাঁস নিয়ে অবিলম্বে বিশেষ আলোচনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে বিরোধী শিবির।
অন্যদিকে, সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য হলো—তারা প্রতিটি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিরোধীরা আলোচনার টেবিল থেকে পালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের যুবসমাজকে জড়িত এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিরোধীদের কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই নিঃশর্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব কাজ থামিয়ে আলোচনাতেও সরকার রাজি ছিল, কিন্তু বিরোধীরা আলোচনা থেকে পালিয়ে গেছে। পদত্যাগের মতো শর্ত চাপিয়ে দেওয়া থেকেই প্রমাণ হয় যে বিরোধীদের আলোচনার কোনো ইচ্ছে নেই।
নীতিন নবীনের খোলা চ্যালেঞ্জ
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমে বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ নীতিন নবীন বিরোধীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন যে সরকার যেকোনো গঠনমূলক আলোচনায় প্রস্তুত; সাহস থাকলে বিরোধীদের সংসদে এসে বিতর্কে অংশ নেওয়া উচিত। এর বিপরীতে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খার্গে কড়া অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, তবেই তাঁরা আলোচনায় বসবেন। এই অনমনীয় দ্বৈরথের জেরে অধিবেশন ফের মুলতবি করা হয়।
মকর গেটে তুমুল বিক্ষোভ
অধিবেশন শুরুর আগে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সাংসদরা সংসদের মকর গেটের সামনে সমবেত হয়ে তীব্র স্লোগান ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। উল্লেখ্য, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের দ্রুত নিষ্পত্তি ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন।