“গোটা পৃথিবী সবটা জানে”, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে মমতার নাম জড়ানোয় তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের

“গোটা পৃথিবী সবটা জানে”, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে মমতার নাম জড়ানোয় তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের

২০১২ সালের চাঞ্চল্যকর সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর এই হাই-প্রোফাইল মামলায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার, বরুণ বিশ্বাসের আন্দোলন-সঙ্গী নন্দদুলাল দাস বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ওই আবেদনে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অভিযোগপত্রে যুক্ত করার দাবি জানান। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও অভিযোগের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে নিয়মানুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার নিবাসী এবং কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সুটিয়ায় ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ’। এছাড়া নদী সংস্কারের সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগে তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধেও তিনি জোরালো অবস্থান নেন। ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন তিনি।

শুরু থেকেই নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তৎকালীন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ১৪ বছরেও বিচার না পাওয়ায়, বরুণের পরিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শরণাপন্ন হয়। শুভেন্দুর হস্তক্ষেপে সিআইডি নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং বর্তমানে বনগাঁ আদালতে পুনরায় এই মামলার ট্রায়াল চলছে। আগামী ৩১ আগস্ট এই মামলায় নিহতের বাবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

পুলিশে জমা দেওয়া অভিযোগে নন্দদুলাল দাসের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য এতদিন চাপা পড়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের পথে না হেঁটে ঘটনার দায় সিপিএমের ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা চলেছিল। এই আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

এদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়ানোর বিষয়ে বরুণের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস জানান, আইনি লড়াইয়ে যে কেউ অভিযোগ জানাতেই পারেন এবং নন্দদুলাল তাঁর আইনি অধিকার ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ তদন্তসাপেক্ষ হওয়ায় পরিবার এই মুহূর্তে আলাদা করে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাফাই দিয়ে বলেন, “গোটা পৃথিবী জানে যে বরুণ বিশ্বাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। বিচার পাওয়ার অধিকার সবারই আছে, কিন্তু এভাবে ভিত্তিহীনভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম টেনে এনে তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *