ট্যাক্স ফাঁকি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নবান্নের, রাজস্ব বাড়াতে সব দপ্তরকে নির্দেশ মুখ্যসচিবের

সাধারণ মানুষের উপর নতুন করে করের বোঝা না চাপিয়ে রাজ্যের কোষাগারের হাল ফেরাতে রাজস্ব বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দিল নবান্ন। মুখ্যসচিবের তরফে সমস্ত দপ্তরকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কীভাবে কর ফাঁকি বা ‘লিকেজ’ বন্ধ করে আয় বাড়ানো যায়, তার সুনির্দিষ্ট ব্লু প্রিন্ট তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কী ছিল এবং বাস্তবে কতটা আদায় হয়েছে, তাও জানাতে চেয়েছে রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, শেষ কবে ট্যাক্স রিভিশন হয়েছে, কোন কোন খাতে কর ফাঁকি হতে পারে এবং তা কীভাবে আটকানো সম্ভব— এই সমস্ত বিষয়ে প্রতিটি দপ্তরকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে আবগারি, পরিবহণ, ভূমি ও ভূমিসংস্কার, পূর্ত এবং স্বাস্থ্যের মতো দপ্তরগুলোর ক্ষেত্রে এই বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের পাঠানো চিঠিতে প্রত্যেক দপ্তরকে তাদের ভবিষ্যৎ রাজস্ব বৃদ্ধির পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন সরকারের প্রথম এক মাসেই বিভিন্ন দপ্তরের কর ফাঁকি আটকে অতিরিক্ত ১,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে। তবে বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, আগের জমানায় এই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং এর নেপথ্যে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শ্বেতপত্রেও এই রাজস্ব লুটের বিষয়টি তুলে ধরা হবে, যেখানে দেখানো হবে কোন কোন খাতে ঠিক কত হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ইতিমধ্যে মুখ্যসচিবের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দপ্তর পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। নবান্নের এক আধিকারিক জানান, উদাহরণস্বরূপ পরিবহণ দপ্তরের কথাই ধরা যাক, যেখানে বহু গাড়ির বছরের পর বছর ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। জরিমানাসহ সেই বকেয়া অর্থের পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকা। এই বকেয়া কর দ্রুত আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আবগারি দপ্তরের ক্ষেত্রেও রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। মূলত উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বিরাট উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।