‘অসামান্য অধ্যবসায়’, ইস্তফা দেওয়া ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রী

দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পর সরকারের তরফে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর পুরো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনকে জনসেবা এবং ছাত্রকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লিখেছেন, “প্রকৃত নেতৃত্বের পরিমাপ করা হয় কয়েক দশকের কাজের ভিত্তিতে। ধর্মেন্দ্র প্রধানজির কর্মজীবন জনসেবা ও ছাত্রকল্যাণের প্রতি আজীবন নিবেদিত থাকার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রিজিজু আরও বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রাখতে তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর মধ্যে এক অতুলনীয় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দেখেছেন।
রিজিজুর কথায়, “এমন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যে অসামান্য অধ্যবসায় ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন, তা তিনি সাহসিকতার সঙ্গেই পালন করেছেন। তাঁর এই নিরলস সেবা এবং শক্তিশালী ভারত গঠনে অবদানের জন্য তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনেও তিনি একই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা করে যাবেন—এই কামনায় তাঁর জন্য রইল অনেক শুভকামনা।”
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত বিতর্ক এবং দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে শনিবার নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর তিনি স্পষ্ট জানান যে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো মর্যাদার লড়াই ছিল না; বরং বিগত ১০ দিনের ঘটনাক্রম তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যাতে শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনো জটিলতায় না পড়ে, তা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণ-আন্দোলনের মুখে এমন হেভিওয়েট মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।