ধর্মেন্দ্রর ইস্তফায় মমতার দিল্লি সফর নিয়ে সংশয়, সৌগত রায় কী জানালেন?

ধর্মেন্দ্রর ইস্তফায় মমতার দিল্লি সফর নিয়ে সংশয়, সৌগত রায় কী জানালেন?

তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে জানিয়েছিলেন, তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে দিল্লি যেতে পারেন। তাঁর এই ইঙ্গিতের পরেই সবার নজর ছিল তাঁর দিল্লি সফরের দিকে। শুক্রবার কলকাতায় বাম সংগঠনগুলির মিছিলের দিনই জানা যায়, মমতা ব্যানার্জি সোমবার দিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে যেতে পারেন।

কিন্তু শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারী পড়ুয়া এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মূল দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই ইস্তফার পরেও কি মমতা দিল্লি যাবেন? এই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির সঙ্গে, তবে তিনি এই বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। পরবর্তীতে সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি দিল্লিতেই রয়েছি, তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’

এদিকে, প্রবল গণআন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সৌগত রায় অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ‘খুব খুশি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জয় হল। প্রথম থেকেই আমাদের দল এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে, মমতা ব্যানার্জিরও আসার কথা ছিল। আসলে শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার অনড় ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে আন্দোলন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র দাবি মানতে বাধ্য হয়। দেখা যাক এবার কী হয়।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার, ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুর দিনেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় নয়াদিল্লি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেন্ট্রাল দিল্লি। আন্দোলন দমাতে প্রথমে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের ওপর মৃদু লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরবর্তীতে মিছিল দিল্লির কেন্দ্রস্থলে পৌঁছলে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, লাঠিচার্জ, পেলেট গান এবং জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়।

দিল্লির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের পদক্ষেপ এবং পুলিশি হিংসার তীব্র সমালোচনা করেন মমতা ব্যানার্জি। বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দে দাগ তিনি বলেন, “দিল্লিতে দেখুন, ছাত্র-যুবদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। যে বেইমানি করবে তাঁকে সমর্থন করার দরকার নেই। দরকার হলে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে আমি নিজে যাব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *