“দুনিয়া ঝুঁকে যায়…”, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় যন্তর মন্তরে বাঁধভাঙা উল্লাস।

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং দেশজুড়ে চলা নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে বড়সড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রবল রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত সিজেপি (CJP)-র ধর্না মঞ্চে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস। আন্দোলনকারীদের এই জয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা করেন, “আমরা করে দেখিয়েছি! ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন! শেষ!”
কী বললেন অভিজিৎ দিপকে?
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর চাউর হতেই যন্তর মন্তরের ধর্না মঞ্চে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে। সহযোদ্ধাদের নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে অভিজিৎ বলেন, “তারা বলত এই সরকারে নাকি পদত্যাগ হয় না। আমরা বলতে চাই—দুনিয়া ঝুঁকে যায়, শুধু ঝোঁকানোর মতো মানুষ চাই!”
এরপর তিনি একে একে সেই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের নাম স্মরণ করেন, যাঁদের লড়াইয়ের জন্যই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। প্রদীপ রাঠোর, প্রতীক মিশ্র, সিদ্ধার্থ হেগড়ে, ভাগ্যশ্রী, অংশিকা পান্ডে, উমেশ মালি, রেনু মিনা, রিয়া কুমারী ঝাপা, শিবানী যাদব, তনু গুর্জর, কাহান প্যাটেল, আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী, রিমা বেগম, মৈথিলী অশোক সোনাওয়ানে, অবন্তিকা মৌর্য, যতীন কুমার, গোপিকা, শেখ সানা ও ভেক্ত্রি আনন্দমের মতো মুখগুলির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরাই সেই সন্তান, যারা আজ বিচার পেল! এই জয় সেই সব তরুণদের জন্য, যাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে পড়েছিল।”
পদত্যাগের পর কী লিখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?
দীর্ঘ জল্পনা ও বিরোধীদের ধারাবাহিক চাপের মুখে শুক্রবার ইস্তফা দেওয়ার পর ‘তরুণ বন্ধুদের’ উদ্দেশ্যে একটি দুই পাতার খোলা চিঠি লিখেছেন বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানান, এটি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়। আন্দোলনকে হাতিয়ার করে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যাতে ফায়দা তুলতে না পারে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় নষ্ট না হয়, সেই কথা ভেবেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
চিঠির ছত্রে ছত্রে তাঁর ক্ষোভ ও বেদনার সুরও স্পষ্ট। যন্তর মন্তরে চলা টানা বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, “গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন অত্যন্ত ব্যথিত। ভারতমাতার যুবশক্তিই দেশের আসল শক্তি। যন্তর মন্তরে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে… সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।”