ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পর শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ জোশী! মোদীর এই মাস্টারস্ট্রোকের নেপথ্যে বড় কারণ কী?

শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব কি তবে বিশেষ কোনো রণকৌশলেই প্রহ্লাদ জোশীকে দেওয়া হলো? হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই ‘আউট অফ সিলেবাস’ পছন্দের মাধ্যমে রাজনৈতিক মহলে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হল? ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং জোশীর নতুন এই রাজনৈতিক দায়িত্ব ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

দেশজুড়ে NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ ও আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে পড়ে পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গত ২৫ জুলাই তাঁর পদত্যাগের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব তুলে দেন প্রহ্লাদ জোশী কাঁধে। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় খাদ্য, গণবণ্টন এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকলেও, এবার তাঁর কাঁধেই এল শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব। কিন্তু গোটা দেশের নজর যখন শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে, ঠিক সেই মুহূর্তে মোদী কেন প্রহ্লাদ জোশীকে বেছে নিলেন?

এনটিএ (NTA)-কে ঢেলে সাজানোই মূল চ্যালেঞ্জ

দেশজুড়ে NEET-UG কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করার দাবি জোরালো হয়েছে। নতুন মন্ত্রীর প্রথম এবং সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে পুরোপুরি নতুন রূপ দেওয়া।

‘জিরো পেপার লিক’ বা শূন্য শতাংশ প্রশ্নফাঁসের নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং ধাপে ধাপে ওএমআর (OMR) ভিত্তিক নিট পরীক্ষাকে কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা বা CBT-তে রূপান্তরিত করার মতো বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সমস্ত বড় পদক্ষেপের জন্য একজন দৃঢ়চেতা ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। আর সেই কারণেই বিনা শোরগোলে অভিজ্ঞ জোশীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদীর বিশ্বস্ত এবং সংঘের আস্থাভাজন মুখ

কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার জয়ী সাংসদ প্রহ্লাদ জোশী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় হাইকম্যান্ডের অত্যন্ত আস্থাশাজন এবং বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে তাঁর আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি আরএসএস-এর একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় সংঘ পরিবারেরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাঁর ওপর।

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায়, বিরোধী দলগুলোর আক্রমণ এবং কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামলানোতেও তিনি যথেষ্ট পটু। কেন্দ্র সরকার এবং ক্ষুব্ধ ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য জোশীর মতো পোড় খাওয়া নেতাই সঠিক বিকল্প বলে মনে করেছে মোদী সরকার ও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রশাসনের কড়া হাতে নতুন সংস্কারের ইঙ্গিত

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের দাবি যাঁরা তুলেছিলেন, মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে তাঁদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের অধীনে থাকা সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও সুশৃঙ্খল হতে চলেছে। পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগানোর কাজও দ্রুত সারবেন জোশী। হাইকম্যান্ডের পূর্ণ বিশ্বাস, জোশীর কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ কাজের ধরণ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এবং প্রশাসনিক গতি ফেরাতে বড় ভূমিকা নেবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিতেই মোদী যে একজন দক্ষ ও পরীক্ষিত সেনাপতিকে বেছে নিয়েছেন, তা এক প্রকার স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি নরেন্দ্র মোদীর এক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *