আসামে প্রলয়ঙ্করী বন্যা! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬, চরম বিপদের মুখে ১০টি জেলা

অসমে প্রলয়ঙ্করী বন্যা! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬, চরম বিপদের মুখে ১০টি জেলা

আসামে বন্যার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আসাম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (ASDMA)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর ফলে রাজ্যে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৬ জনে।

শনিবার ASDMA-এর ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DRIMS) থেকে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যে তিনজন শিবসাগর জেলার এবং একজন চড়াইদেও জেলার বাসিন্দা। মোট ৬৬ জন মৃতের মধ্যে ৬৫ জন সাধারণ বন্যায় এবং একজন শহুরে বন্যার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

১০টি জেলা জুড়ে ব্যাপক প্রভাব

রিপোর্ট অনুযায়ী, গোলাঘাট, চড়াইদেও, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, যোরহাট, শোণিতপুর, কামরূপ (মেট্রো) এবং নগাঁও—এই ১০টি জেলার প্রায় ৬.৫৪ লক্ষ মানুষ বর্তমানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা শিবসাগরের, যেখানে ২ লক্ষ ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিপদের মুখে পড়েছেন। এরপর রয়েছে চড়াইদেও (১.৮৮ লক্ষ) এবং যোরহাট (১.৩১ লক্ষ)।

রাজ্যের ২৮টি রাজস্ব সার্কেলের মোট ৮১০টি গ্রাম সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গেছে। এর ফলে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি কামরূপ ও কামরূপ (মেট্রো) জেলায় শহুরে বন্যার কারণেও জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

বিপদসীমার উপরে বইছে প্রধান নদীগুলো

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে নদীর জলস্তর। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের বুলেটিন জানিয়েছে, শিবসাগরে দিখৌ নদী এবং নুমালিগড়ে ধানসিঁড়ি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে

এই মারাত্মক সংকট মোকাবিলায় ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে মোট ২৭৪টি ত্রাণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি ত্রাণ শিবির ও ১৮৪টি বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে এই শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন ১৮,৯০২ জন মানুষ; যার মধ্যে রয়েছেন ২১০০-র বেশি শিশু এবং প্রায় দুই শতাধিক গর্ভবতী বা প্রসূতি নারী।

পরিকাঠামোর দিক থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৪৩টি রাস্তা এবং ১০টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিবসাগর ও যোরহাটের। এমনকি বন্যায় সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিন হাজারের বেশি পশু ও হাঁস-মুরগি জলের তোড়ে ভেসে গেছে।

পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত সঙ্কটজনক’: সর্বানন্দ সোনোয়াল

উদ্ধারাজে এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। এরই মধ্যে শিবসাগরের ত্রাণশিবির পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। আসামের এই বন্যাকে ‘অত্যন্ত সঙ্কটজনক’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে সমস্ত রকম সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *