‘হিংসা নয়, সমাধান আসুক আলোচনার টেবিলে!’ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর বড় বার্তা আন্না হাজারের

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রবীণ সমাজকর্মী আন্না হাজারে। শনিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যেকোনো সামাজিক সমস্যা বা ক্ষোভের সমাধান একমাত্র শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, গণতন্ত্র এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
আহিলিয়ানগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৮৯ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান সমাজকর্মী গণতন্ত্র ও আলোচনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, কোনো একনায়কতন্ত্র বা হুকুমদারি শাসন নয়। সবসময় গণতন্ত্রের পথই মেনে চলা উচিত।” সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথেই যে যেকোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব, সে কথাই উঠে আসে তাঁর মুখে।
নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে আন্না হাজারে জানান, তিনি জীবনে মোট ২২ বার অনশন করেছেন, কিন্তু কখনোই সহিংসতার পথ বেছে নেননি। বরং এই অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ ধরেই দেশে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেকোনো সমস্যার প্রকৃত সমাধান আসে আলোচনার মাধ্যমে। অশান্তি সৃষ্টি করা বা ভুল পথে হাঁটা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। পরিস্থিতি যেমনই হোক, কখনোই হিংসার আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়।”
সরকারের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে আন্না হাজারে বলেন, প্রশাসনের সব সময় সাধারণ মানুষের কথা শোনা উচিত এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকারের এক ধাপ এগিয়ে এসে আলোচনা করাও উচিত। হিংসার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই যে দেশের প্রকৃত জনস্বার্থ সুরক্ষিত হয়, সেই কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজধানীতে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’-তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদলের তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফল আলোচনার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিন ধরে চলা আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় সিজেপি। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা সদর্থক মনোভাব নিয়ে আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।