১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রোল চাই! ইথানল নীতি নিয়ে নীতিন গডকড়ির পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দেশ

১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রোল চাই! ইথানল নীতি নিয়ে নীতিন গডকড়ির পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড় দেশ

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন ও উত্তাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দেশের জ্বালানি নীতি কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতে মুখর হয়েছে দেশ। কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বা E20 জ্বালানি নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে পড়েছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘E20 জনতা পার্টি’। তাদের সাফ দাবি, সাধারণ মানুষকে বাধ্যতামূলক ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি গিলিয়ে জোর করা চলবে না, বরং ১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রোল কেনার অবাধ অধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে এই নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির পদত্যাগের দাবিও তুলেছে তারা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে এই আন্দোলন। সংগঠনের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের X (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ফলোয়ার সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে পরে ৪৬ হাজারে পৌঁছায়। পাশাপাশি Instagram-এও তাদের অনুগামী সংখ্যা ১ লক্ষ ৫১ হাজারে পৌঁছেছে।

E20 পেট্রোলের বিরুদ্ধে ৪ অগস্ট সংসদ অভিযান

ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের বিরোধিতায় এবার সরাসরি পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবহন সংগঠনগুলিও। দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টার্স অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন আগামী ৪ অগস্ট বিশাল সংসদ অভিযান করার ঘোষণা করেছে। পরিবহন মহলের মূল অভিযোগগুলি অত্যন্ত স্পষ্ট:

  • পেট্রোলে ইথানল মেশানোর ফলে গাড়িগুলির মাইলেজ দ্রুত কমছে।
  • গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে।
  • বিশেষ করে পুরনো গাড়িগুলির ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতার ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

‘বিকল্প চাই, জোরজুলুম নয়’

E20 জনতা পার্টির স্পষ্ট বক্তব্য, তারা কোনো অবাস্তব দাবি বা বিনামূল্যে জ্বালানির দাবি তুলছেন না। তাদের মূল দাবি হলো—গ্রাহকদের হাতে জ্বালানি বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। কেউ চাইলে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি কিনবেন, আবার কেউ চাইলে ১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রোল বেছে নেবেন। এছাড়া পাম্পে জ্বালানির পরিষ্কার লেবেলিং, ইথানলের খরচ নিয়ে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ গবেষণার দাবিও তুলেছে তারা।

বর্তমানে দেশে ইথানল-মুক্ত ১০০-অকটেন প্রিমিয়াম পেট্রোল কিছু জায়গায় মিললেও তার দাম প্রতি লিটার প্রায় ১৬৯ টাকা। অন্যদিকে দিল্লিতে সাধারণ E20 পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১০২.১২ টাকা। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই আকাশছোঁয়া দাম বহন করা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

সরকারের সাফাই ও আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই

এদিকে এই বিতর্কের মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের কারণে গাড়ির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রমাণ এখনও মেলেনি। সম্প্রতি সংসদে পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপি জানিয়েছেন, এসংক্রান্ত কোনো ‘ব্যাপক বা প্রমাণিত’ অভিযোগ সরকারের কাছে নেই।

তবে সরকারের আশ্বাসেও বিতর্ক থামছে না। আগামী ৪ অগস্টের সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দেশের ইথানল জ্বালানি নীতি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *