আসামে বন্যা পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫!

অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫!

আসামের বন্যা পরিস্থিতির আংশিক উন্নতি ঘটলেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, যার ফলে চলতি বছরের বন্যায় আসামে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৫-এ।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

  • আক্রান্ত জেলা: বর্তমানে আসামের শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ (মেট্রোপলিটন)—এই ৭টি জেলা বন্যার কবলে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর ও চরাইদেও জেলা।
  • ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা: এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৬২২টি গ্রাম প্লাবিত এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে একা চরাইদেও জেলাতেই ১ লক্ষ ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যাকবলিত।
  • ত্রাণ শিবির: পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ায় বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে ৮১টি ত্রাণ শিবিরে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

উদ্ধারকাজ ও কৃষি জমির ক্ষয়ক্ষতি

  • যৌথ উদ্ধারকাজ: সেনা, বায়ুসেনা, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকার্য চালিয়ে যাচ্ছে।
  • নদীর জলস্তর ও কৃষি: গোলাঘাট জেলার নুমালিগড়ে ধানসিড়ি নদীর জল এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি বহু বাড়ি ও গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্য সরকারের বিশেষ আর্থিক সাহায্য ও ঘোষণা

বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় মঙ্গলবার একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছে আসাম সরকার:

  • মৃতের পরিবারকে সাহায্য: বন্যায় মৃতদের পরিবারকে সরকারি অনুদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের এক মাসের মধ্যে খোঁজ না মিললে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
  • অন্তর্বর্তীকালীন সাহায্য: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলা—শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট এবং গোলাঘাটের তীব্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে শীঘ্রই অন্তর্বর্তীকালীন সাহায্য হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
  • ক্ষতিগ্রস্তের মূল্যায়ন: আগামী ৩ অগস্ট থেকে বাড়ি, গবাদি পশু ও কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু হবে, যার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে যোগ্য পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *