“যুবসমাজকে বোকা বলা দুর্ভাগ্যজনক”, রাহুলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন জিতেন্দ্র সিং

লোকসভায় তুমুল হট্টগোল এবং দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ধ্বনি ভোটে পাস হয়ে গেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রশ্নফাঁসরোধী বিল’ (Anti-Paper Leak Bill)। তবে বিল পাস হওয়ার এই প্রক্রিয়ার মাঝেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, স্পিকার ওম বিরলা আগামী ৩০ জুলাই সকাল ১১টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
জিতেন্দ্র সিংয়ের নিশানায় রাহুল গান্ধী
লোকসভায় বিলটি উত্থাপন এবং আলোচনার সময় বিরোধী দলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ বা আলোচনা করার বদলে বিরোধীরা কেবল রাজনীতি করছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা সংসদে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন তা অত্যন্ত অসংসদীয় এবং অপ্রত্যাশিত। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়ে ভাবি, তিনি সংসদীয় কার্যপ্রণালীর প্রাথমিক নিয়মকানুন ও শিষ্টাচার সম্পর্কে আদৌ অবগত আছেন কি না। এই দেশের যুবকদের, যারা জাতির ভবিষ্যৎ, তাঁদের ‘বোকা’ বলার চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে?” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটানো এই বিলের উপর বিরোধীরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবেন বলেই আশা ছিল বলে জানান তিনি।
২১ জুলাইয়ের প্রসঙ্গ ও অন্যান্য বিতর্ক
আলোচনার সময় গত ২১ জুলাইয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন জিতেন্দ্র সিং। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ওই দিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের (৭, লোককল্যাণ মার্গ) বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন বিরোধী নেতারা। যখন তাঁদের বোঝানো হয় যে এই ধরনের আচরণ তাঁদের পদের মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়, তখন তারা ক্ষুব্ধ হন।
পাশাপাশি, সদনে ওঠা একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের জবাব দিয়ে মন্ত্রী পরিষ্কার জানান যে, সেই ঘটনায় কোনও ধরনের গুলি চালানো হয়নি; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যখন কোনও গুলিই চালানো হয়নি, তখন গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই ধরনের নির্দেশ দেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা কেবল একজন ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, কোনও মন্ত্রীর নয়।” সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিলটি পাস হওয়ায় একে সরকারের অন্যতম বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।