‘শুধু রিলেই ক্ষমা, নাকি আইনি মামলাও প্রত্যাহার?’ মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকের!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক একটি ইনস্টাগ্রাম বার্তাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা বা এফআইআর দায়ের হয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ক্ষমা’ কি স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও বা রিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সেই আইনি মামলাগুলিও প্রত্যাহার করা হবে? ঠিক এই প্রশ্নটিই তুলেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে একাধিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও পোস্ট করছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবারের তেমনই একটি ভিডিওতে তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা ছাত্রদের শাস্তি না দিয়ে সঠিক পথ দেখানোই সমাজের কর্তব্য। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের চক্করে ফেলে কাউকে হয়রানি করার চেয়ে ক্ষমা ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনেই অভিজিৎ দীপক প্রশ্ন তোলেন, “শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাগুলিও প্রত্যাহার করবেন?”
এই বিতর্কের মাঝেই উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে একাধিক কিশোর-কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকেও এক তরুণীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। যদিও পরে ওই তরুণী ভিডিও বার্তা দিয়ে দাবি করেন, তিনি নাবালিকা (বয়স ১৫) এবং প্ররোচনায় পা দিয়ে নিজের ‘প্রথম ও শেষ ভুল’ করে ফেলেছেন। দেশের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রী যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সহানুভূতি ও সংশোধনের কথা বলছেন, তখন বাস্তবে বিচারাধীন এই সমস্ত এফআইআরগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে?
এর পাশাপাশি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বা ‘দুই আইনি ব্যবস্থার’ অভিযোগ এনেছেন CJP প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, বিরোধী বা সাধারণ তরুণরা আপত্তিকর মন্তব্য করলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, অথচ বিজেপি নেতা বা শাসকদলের আইটি সেলের সদস্যরা একই কাজ করলেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। এক দেশে কেন আইনি প্রয়োগে এই বৈষম্য থাকবে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।