“বিজেপি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে”— তসলিমা নাসরিন! অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সোচ্চার লেখিকা!

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে একাধিক ইস্যুতে মুখ খুললেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি বিশ্বাস করেন বিজেপি বাকস্বাধীনতা বজায় রাখা ও সমর্থন করায় বিশ্বাসী।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জয় গোস্বামী প্রসঙ্গ
তসলিমা স্পষ্ট জানান, ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের থাকা উচিত। সম্প্রতি কবি জয় গোস্বামীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া বিতর্কের বিষয়ে লেখিকা বলেন, “জয় গোস্বামীকে আসাম্মান করা মানে আমাকেও আসাম্মান করা।” তিনি জানান, তিনিই জয় গোস্বামীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে কবিকে দেখতে তাঁর বাড়ি যাবেন।
রাজনীতি ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)
তসলিমা বলেন, এক সময় এক সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দিয়েছিল, আবার অন্য সরকার তাঁকে এখানে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুগামী নন, বরং নীতিতে বিশ্বাসী।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (UCC) পক্ষে জোরালো সওয়াল করে তিনি বলেন, শুধু ভারত নয়—বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও “এক দেশ, এক আইন” থাকা জরুরি। এতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি ও ছাত্র আন্দোলন
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন লেখিকা। তাঁর মতে:
- রাজনৈতিক সমীকরণ: শেখ হাসিনা সরকার কিংবা তারেক রহমানের নেতৃত্বের মধ্যে নীতিগত কোনও পার্থক্য নেই, কারণ কেউই মুক্তচিন্তা বা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেয়নি।
- ছাত্র আন্দোলন: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে উগ্রপন্থী শক্তি সক্রিয় ছিল এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। সব ছাত্র আন্দোলনই ইতিবাচক হয় না।
- সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন: বাংলাদেশে হিন্দু নারী ও ভারতে মুসলিম নারীদের বৈষম্যের শিকার হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্র ও ধর্মকে আলাদা রাখার কথা জানিয়ে তসলিমা বলেন, কিছু মাদ্রাসায় উগ্রপন্থা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নারী অধিকার এবং সত্য বলার পক্ষে তাঁর লড়াই জারি থাকবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন এই বিতর্কিত লেখিকা।