ফুটপাতে কেন ঘুমিয়েছিলেন? চালকের অপরাধ ঢাকতে এই অযুহাত চলবে না, ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাই কোর্টের!

ফুটপাতে ঘুমোনো কোনো অপরাধ বা চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অজুহাত হতে পারে না— এক যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ২০১৫ সালে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা মানুষের ওপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে আদালত।
পটভূমি ও ট্রাইব্যুনালের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত:
২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আদিপুর মেট্রো স্টেশনের নিচের ফুটপাতে দ্রুতগতির একটি ঘাতক ট্রাক উঠে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় পিষে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্য ২ জন গুরুতর আহত হন। তবে পরবর্তীতে মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল (MACT) নিহতের পরিবার ও আহতদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ৫০% কমিয়ে দেয় এই যুক্তিতে যে, “ফুটপাতে ঘুমানোও এক ধরণের অবহেলা।”
দিল্লি হাইকোর্টের কড়া অবস্থান:
ট্রাইব্যুনালের এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দেন বিচারপতি আনিশ দয়াল। ৫০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে আদালত জানায়:
- ফুটপাতে ঘুমোনো অপরাধ নয়: দেশে বহু মানুষ গৃহহীন, নৈশপ্রহরী বা নির্মাণ শ্রমিক। বাধ্য হয়েই নিরাপত্তার খাতিরে তাঁরা ফুটপাতে আশ্রয় নেন।
- চালকের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই: ফুটপাতে পথচারী হাঁটুন বা ঘুমান, সেখানে গাড়ি চালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ড্রাইভারের বেপরোয়া মনোভাব ঢাকতে ফুটপাতবাসীদের “সহ-অবহেলাকারী” বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ:
বিচারপতি আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে বীমা সংস্থাকে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- মৃত দুই ব্যক্তির পরিবার পাবে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ।
- গুরুতর আহত দুই ব্যক্তি পাবেন যথাক্রমে ১৮ লাখ ১০ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার ৫ টাকা।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভারতের কোটি কোটি গৃহহীন মানুষের অধিকার রক্ষায় এক পরম দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।