মোদিকে কটূক্তি মামলায় বড় স্বস্তি, ১৫ বছরের কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর তুলে নিল দিল্লি পুলিশ!

মোদিকে কটূক্তি মামলায় বড় স্বস্তি, ১৫ বছরের কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর তুলে নিল দিল্লি পুলিশ!

গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ১৫ বছরের এক কিশোরীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ এবার সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই নাবালিকার বিরুদ্ধে আর নতুন করে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

ঘটনার নেপথ্যে কী ছিল? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও তুমুল ভাইরাল হয়, যেখানে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিক্ষোভে ওই নাবালিকাকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

প্রথমে গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) রুজু করা হয়েছিল। ঘটনাটি দিল্লির আওতাভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীতে মামলাটি দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল।

দু’বার প্রকাশ্যে অনুশোচনা প্রকাশ ও ক্ষমা বিতর্ক উসকে উঠতেই ওই কিশোরী দুটি আলাদা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রকাশ্যে অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চায়।

  • প্রথম বার্তা: সে জানায়, ঘটনাটির জন্য সে ভীষণভাবে লজ্জিত।
  • দ্বিতীয় বার্তা: নিজেকে ১৫ বছর বয়সি দাবি করে সে বলে, “জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে কনট প্লেসে গিয়ে প্ররোচনার শিকার হয়েছিলাম। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের কথায় প্রভাবিত হয়ে আমি ওই কথাগুলো বলে ফেলেছিলাম। এটা আমার জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল।”
  • সে আরও স্পষ্ট করে জানায় যে ভাইরাল ভিডিওটি সে নিজে আপলোড করেনি এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল আর কখনো করবে না।

প্রধানমন্ত্রীর মানবিক আবেদন ঘটনার পর এক গভীর রাতের ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, শুধু তাকেই নয়, তার প্রয়াত মাকেও কুরুচিকর আক্রমণ করা হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তবে এর সাথেই তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি মানবিক আবেদন জানান— “ভুল পথে চালিত এই শিশুদের ক্ষমা করুন এবং ওদের সঠিক পথ দেখান।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই পুলিশ ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল আলাদাভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং ‘X’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *