পুতিনের প্রাসাদের কাছে রিসর্টে ড্রোন হামলা: নিহত ৭, সমুদ্রসৈকতে আতঙ্ক!

কৃষ্ণসাগর উপকূল: রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘গেলেনঝিক’-এর আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের একটি রিসর্টে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ৩টি শিশুসহ অন্তত ৭ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৪০ জন পর্যটক। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সরাসরি দায় ইউক্রেনের ওপর চাপিয়েছে মস্কো।
যেভাবে ঘটল বিস্ফোরণ: প্রতি বছরের মতো এবারও মনোরম আবহাওয়ার টানে হাজার হাজার পর্যটক সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটকরা যখন সমুদ্রসৈকত ও রিসর্টে আনন্দে মেতে ছিলেন, ঠিক তখনই একটি ড্রোন আচমকা সেখানে আছড়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের ঠিক আগে টানা গুলির শব্দও শোনা গেছে, যা দেখে সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা— ড্রোনটিকে গুলি করে নামানোর চেষ্টা করছিল রুশ সেনা।
পুতিনের প্রাসাদই কি আসল নিশানা? যে রিসর্টে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, তার খুব কাছেই অবস্থিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত বাসভবন ‘পুতিনস প্যালেস’। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের মূল লক্ষ্য ছিল পুতিনের ওই সুরক্ষিত প্রাসাদটিই। তবে প্রাসাদটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনাকে সরাসরি ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, “ন্যাটো এবং ইইউ (EU) মুখে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বললেও বাস্তবে তারাই এই ধরণের হামলায় মদত দিচ্ছে।”
অন্যদিকে, হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কূটনীতিকদের এক সভায় জানান, ইউক্রেন সবসময়ই শান্তি চায় এবং এই যুদ্ধ শুরু করেনি। কিন্তু রাশিয়া আলোচনায় বসতে রাজি নয় বলেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।