রক্তদানের আড়ালে ৪ কোটির প্লাজমা পাচার! কাঠগড়ায় ১১টি ব্লাডব্যাঙ্ক, কড়া তদন্তের নির্দেশ

রক্তদানের আড়ালে ৪ কোটির প্লাজমা পাচার! কাঠগড়ায় ১১টি ব্লাডব্যাঙ্ক, কড়া তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিনামূল্যে সংগৃহীত রক্ত থেকে তৈরি প্লাজমা ভিনরাজ্যে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার এক মারাত্মক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়াই রাজ্যের প্রায় ১১টি ব্লাডব্যাঙ্ক আনুমানিক ৪ কোটি টাকার প্লাজমা ভিনরাজ্যে (বিশেষ করে ঝাড়খণ্ডে) পাচার করেছে। এই প্রক্রিয়ায় সঠিক নিয়ম বা অনুমতি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই হাজরার ‘পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক’-এ স্বাস্থ্যভবনের প্রতিনিধি দল অভিযান চালিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দিনে এই তল্লাশি অভিযান আরও বাড়বে, কারণ এই বেআইনি চক্রের শিকড় অনেক গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের ভেতরে রক্ত বা প্লাজমা পাঠাতে ‘স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’ এবং ভিনরাজ্যে পাঠাতে ‘ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল’-এর অনুমোদন লাগে। অভিযোগ, সেই সব নিয়ম তুড়ি মেরে উ উড়িয়েই চলেছে এই কোটি টাকার কারবার।

কেন প্লাজমার এত চাহিদা? রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই হলো প্লাজমা। এতে থাকে জল, প্রোটিন, অ্যান্টিবডি ও রক্তের জমাট বাঁধার উপাদান। সড়ক দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, লিভারের জটিল রোগ এবং বিরল ‘অটোইমিউন’ ব্যাধির চিকিৎসায় প্লাজমা অপরিহার্য। এই বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়েই ব্লাডব্যাঙ্কগুলি বেআইনি ব্যবসার ফাঁদ পেতেছে।

এই পাচারের পাশাপাশি রক্ত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্লাজমার চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও লোহিত রক্তকণিকার (RBC) ততটা চাহিদা থাকে না; ফলে সেই মূল্যবান রক্ত ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এতে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যদফতর। রক্তদাতাদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা, “দয়া করে রক্তদানের সময় কোনো উপহার গ্রহণ করবেন না। সচেতন থাকুন, যেন আপনার দান করা রক্ত সৎ ও সঠিক কাজে ব্যবহার হয়।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *