মোবাইল ভুলে বইয়ে মন! স্কুলেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ ‘রিডিং কর্নার’

মোবাইল ভুলে বইয়ে মন! স্কুলেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ ‘রিডিং কর্নার’

আজকালকার দিনে ছোটদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ দিন দিন কমছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন—সবক্ষেত্রেই মোবাইল বা ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর ফলে বইয়ের সাথে বর্তমান প্রজন্মের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে মাথায় রেখে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে ‘রিডিং কর্নার’ এবং লাইব্রেরি তৈরি করতে হবে।

‘রিডিং কর্নার’-এ কী কী থাকবে এবং কী নিয়ম মেনে চলা হবে?

  • বইয়ের বৈচিত্র্য: লাইব্রেরিতে গল্পের বই, মানচিত্র, বিভিন্ন অভিধান এবং নানাবিধ বিজ্ঞানের বই রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • নির্দিষ্ট সময়: স্কুলেই পড়ুয়াদের বই পড়ার জন্য আলাদা সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
  • শব্দ করে পড়ার সুযোগ: সাধারণ লাইব্রেরির মতো এখানে কড়া নীরবতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক নয়; বরং পড়ুয়ারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে জোর গলায় উচ্চারণ করে পড়তে পারে, সেরকম পরিবেশ তৈরি করা হবে।

যেসকল স্কুলে আলাদা করে লাইব্রেরি নেই, সেখানে অবিলম্বে গ্রন্থাগার তৈরির জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই কাজের জন্য আলাদা কোনো সরকারি ফান্ড দেওয়া হচ্ছে না; স্কুলগুলোকে নিজেদের তহবিল বা স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করে এই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, গ্রামের অনেক দরিদ্র শিশু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভালো বই কিনতে পারে না। এই উদ্যোগ তাদের অনেক উপকার করবে এবং তিনি নিজেও এই কাজে সাধ্যমতো সাহায্য করবেন। শিক্ষকমহলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *