‘শুধু আইনি বিয়ে নয়, সুসম্পর্কই আসল’—লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার মামলায় নজির গড়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
August 4, 202610:57 am

নারীর অধিকার ও পরিবর্তনশীল সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিবাহের মতো লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হলে, তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৪৯৮এ (498A) ধারায় বৈবাহিক সুরক্ষার মতোই ফৌজদারি আইনি প্রতিকার পাবেন। অর্থাৎ, পুরুষ সঙ্গী তাঁকে আইনি বিয়ের অনুপস্থিতির অজুহাতে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না।
রায়ের মূল দিকগুলি:
- স্ত্রীর সমান আইনি অধিকার: বিচারপতি সঞ্জয় করোলে এবং এন. কোটিশ্বর সিং-এর বেঞ্চ জানান, ধারা ৪৯৮এ-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের গার্হস্থ্য নির্যাতন থেকে বাঁচানো। যে লিভ-ইন সম্পর্কগুলি কার্যত ‘বিবাহ-সদৃশ’, সেখানে একজন নারী বৈধ স্ত্রীর মতোই আইনি সাহায্য পাবেন।
- যে শর্তে এই নিয়ম প্রযোজ্য: আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সব লিভ-ইন সম্পর্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ধারার আওতায় আসবে না। সম্পর্কের প্রকৃতি সত্যিই ‘বিবাহ-সদৃশ’ ছিল কিনা এবং উভয় পক্ষই বিয়ে করতে ইচ্ছুক ছিল কিনা, তা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
- মামলার প্রেক্ষাপট: কর্নাটক হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন এক ব্যক্তি। অভিযোগ ছিল, প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে তিনি এক নারীর সাথে সহবাস করেন এবং পরবর্তীতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালান। অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন— যেহেতু তাঁদের আইনি বিয়ে হয়নি, তাই ৪৯৮এ ধারা তাঁর ওপর প্রযোজ্য নয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি নাকচ করে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।
- গ্রেফতারির নির্দেশিকা: আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ধরনের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি গ্রেফতার না করে ‘অর্ণেশ কুমার বনাম বিহার রাজ্য’ মামলার নির্দেশিকা মেনে প্রাথমিক তদন্তের পরই পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আইনের কোনো অপব্যবহার না হয়।
আদালতের বার্তা: ২০০৫ সালের গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনে লিভ-ইন সম্পর্ক দেওয়ানি সুরক্ষার আওতায় থাকলেও, ধারা ৪৯৮এ ফৌজদারি শাস্তির পথ সুগম করে। আইনি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা না থাকার কারণে কোনো নারীকে বিচার থেকে বঞ্চিত করা সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমতার নীতির পরিপন্থী।