ডিএ নিয়ে দ্বিমুখী নীতি? ট্রেজারি টাকা পেলেও কেন খালি হাত KMC-র অবসরপ্রাপ্তদের!

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে গত ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়া শুরু হলেও বিতর্কের মেঘ সরেনি। রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশের অ্যাকাউন্টে বকেয়ার টাকা ঢুকলেও ক্ষোভ ছড়াচ্ছে অন্য জায়গায়। অভিযোগ, কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের (KMC) অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র একটি টাকাও পাননি। একইসঙ্গে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) আওতায় থাকা কর্মীরাও। যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কর্মচারীদের একাংশ।
KMC-র অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ঘিরে ক্ষোভ
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রেজারি থেকে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে বকেয়া ডিএ-র একাংশ পেলেও KMC-র অবসরপ্রাপ্তরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত।
মলয়বাবু জানান, গত ৭ জুলাইয়ের আদেশনামা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা এখনও অধরা। পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদেরও মেলেনি পাওনা
শুধু KMC-র পেনশনাররাই নন, বঞ্চিতের তালিকায় রয়েছেন গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরাও। গত ১ এপ্রিল থেকে প্রযোজ্য হতে চলা ৪ শতাংশ ডিএ কেন এখনও ঝুলে রয়েছে, তা নিয়ে মলয় মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন। বারবার পুজোর আগে বাড়তি বেতন বা ডিএ দেওয়ার আশ্বাস শোনা গেলেও, এই দুই বকেয়া ক্যাটাগরির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের তরফে কেন স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা আসছে না, সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের এই ভূমিকার পর কবে বকেয়া টাকা পুরোপুরি হাতে পাবেন, সেই দিকেই এখন প্রহর গুনছেন রাজ্যের সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনাররা।