জুলাইয়ের রেকর্ড বৃষ্টিতে জুনের ঘাটতি মেটলেও অগস্টে ফের ঘোর খরা-আশঙ্কা, নেপথ্যে ‘এল নিনো’!

জুলাইয়ের রেকর্ড বৃষ্টিতে জুনের ঘাটতি মেটলেও অগস্টে ফের ঘোর খরা-আশঙ্কা, নেপথ্যে ‘এল নিনো’!

জুনের চরম বৃষ্টি-ঘাটতি অনেকটাই মেটালো জুলাই। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় জুলাইয়ে দেশজুড়ে বৃষ্টির পরিস্থিতি স্বাভাবিকের কাছাকাছি এলেও, অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জুলাইয়ের চরম বৈপরীত্য ও রেকর্ড বৃষ্টি আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। তবে জুলাইয়ে তা এক ধাক্কায় ঘুরে দাঁড়ায় এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর ফলে বর্ষার প্রথম দুই মাসে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি কমে দাঁড়ায় ১১ শতাংশে। ৪ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৪৪৬.৩ মিমি, সেখানে দেশে বৃষ্টি হয়েছে ৩৯৫.৫ মিমি।

জুলাই মাসটি ছিল আবহাওয়াগত বৈপরীত্যে ভরা। মাসের শুরুতে ৩৫ শতাংশ ঘাটতি থাকলেও, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রথম নিম্নচাপের টানে ৯ জুলাইয়ের মধ্যেই গোটা দেশে বর্ষা পৌঁছে যায়। ২ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলেও, ৯ থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তা আবার ৫১ শতাংশ ঘাটতিতে নেমে আসে। জুলাই জুড়ে পর পর শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার কারণেই গুজরাটসহ দেশের একাধিক জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ৩৪টি জায়গায় ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে ছিল গুজরাটের ভালসাড় জেলার উমরগাম। ২৩ জুলাই সেখানে একদিনেই ১,০৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা দেশের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত।

যোগাযোগ ব্যাহত, অথচ ১৬ রাজ্যে ঘাটতি একদিকে প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় একাধিক ধস নেমে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে দেশের প্রায় ৩৬ শতাংশ এলাকা জুড়ে থাকা ১৬টি রাজ্যে এখনও বৃষ্টির তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৫টি রাজ্যও অন্তর্ভুক্ত।

অগস্টে ‘এল নিনো’র হুমকি, আশার আলো ‘আইওডি’ আইএমডি-র ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, অগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাস মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কাই প্রবল। এর মূল কারণ প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Niño)-র ক্রমবর্ধমান প্রভাব। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া এই ভৌগোলিক পরিস্থিতি সাধারণত ভারতের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়।

তবে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে ভারত মহাসাগরের ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD)। সেপ্টেম্বরে আইওডি ‘পজিটিভ’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশ উষ্ণ থাকলে সাধারণত ভারতে বর্ষা জোরদার হয়, যা এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাবকে কিছুটা হলেও প্রতিহত করতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *