‘১০ হাজার নিহত বা নিখোঁজ, ষড়যন্ত্র থামেনি’: দিল্লির ভার্চুয়াল ভাষণে কেঁদে ফেললেন শেখ হাসিনা
August 5, 20268:44 pm

নয়াদিল্লি ও ঢাকা: বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তিতে (৫ অগাস্ট) নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ (FCC)-র আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য শুরু করতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, কান্নায় তাঁর গলা ধরে আসে।
📌 শেখ হাসিনার বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ:
- নিহত ও নিখোঁজের পরিসংখ্যান: তিনি দাবি করেন, ২০২৪-এর অগাস্টের পর থেকে ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ড থামেনি। অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন এবং প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
- অর্থনৈতিক ধস: দেশে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
- পরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ: জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন কোটা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং সাধারণ ছাত্রদের ঢাল করে নির্বাচিত সরকার উৎখাত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসে সত্য উদঘাটনের তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
- আওয়ামী লীগের ওপর নির্যাতন: আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ৩ হাজারের বেশি ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে।
- দেশে ফেরার আহ্বান: শেখ হাসিনা জানান, তিনি প্রতিশোধ চান না, দেশের ক্ষত সারিয়ে তুলতে চান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশে ফিরতে চান।
🗣️ সজীব ওয়াজেদ জয় ও মহিবুল হাসানের বক্তব্য
- সজীব ওয়াজেদ জয়: শেখ হাসিনার ছেলে জয় রাষ্ট্রসংঘের মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে হিংসাকে মদত দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ আজ আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে”, যা ভারতের নিরাপত্তায় ও স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
- মহিবুল হাসান চৌধুরী: প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই বছরে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে এবং নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে সংঘাত নয়, বরং দেশের ক্ষত নিরাময়ের সুযোগ হিসেবে দেখার অনুরোধ জানান।