হিমঘরে ৭০% আলু, মাথায় হাত চাষিদের: সরকার বদলালেও চন্দ্রকোণায় ভাগ্য ফেরেনি কৃষকের
নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও চন্দ্রকোণার আলুচাষি, ব্যবসায়ী এবং হিমঘর মালিকদের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অঘাস্টের প্রথম সপ্তাহেও আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবং ভবিষ্যতে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কায় দিন গুনছেন তাঁরা।
চলতি বছরের মার্চে আলুর বাম্পার ফলন হলেও চাষিরা উপযুক্ত দাম পাননি। চড়া সুদে ঋণ ও গয়না বন্ধক রেখে আলু চাষ করে চরম বিপাকে পড়েন অনেকে। ঋণের দুশ্চিন্তায় বিষ খেয়ে প্রাণ হারান চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের রাখাল আড়ি (২৮)। অকাল বর্ষণে খেতের আলু নষ্ট হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হরিপদ বাগ (৩৬) নামে অপর এক ভাগচাষি।
মাঠে আলু নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হিমঘরে আলু রাখা নিয়েও তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। চাষিরা আশা করেছিলেন পরে হয়তো ভালো দাম মিলবে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও শোচনীয়:
- ফড়েদের দাপট: হিমঘর থেকে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৫ থেকে ৬ টাকা কেজি দরে। অথচ খুচরো বাজারে তা বিকোচ্ছে ১০-১২ টাকায়। চাষিরা কোনো লাভই পাচ্ছেন না, লাভের গুড় খাচ্ছে ফড়েরা।
- ভিনরাজ্যে বাজার হ্রাস: আগে বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে বাংলার আলু পাঠোনো হতো। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই বাজার এখন হাতছাড়া।
- নতুন সরকারের আশ্বাস ও অনিশ্চয়তা: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং ভর্তুকির আশ্বাস দিলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি।
হিমঘর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রকোণার হিমঘরগুলিতে এখনও ৭০ শতাংশ আলু পড়ে রয়েছে এবং মাত্র ৩০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে হিমঘর খালি করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ আলু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কীভাবে বিক্রি হবে, সেই আশঙ্কায় এখন ঘুম উড়েছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের।