শব্দদূষণ রুখতে কড়া প্রশাসন: মন্দির-মসজিদ সর্বত্র সরছে লাউডস্পিকার, বৈষম্যের নালিশ খারিজ নবান্নের

কলকাতা: কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য জুড়ে জোরকদমে শুরু হয়েছে লাউডস্পিকার ও মাইক অপসারণের কাজ। তবে প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বিতর্ক। বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ তুলছে, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যদিও এই বৈষম্যের নালিশ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের স্পষ্ট বক্তব্য—পরিবেশ সুরক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ পালনে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কড়া ভূমিকা পালন করছে।
আইন সবার জন্য সমান—এই নীতিতে হেঁটে মন্দির বা মসজিদ, যে কোনো স্থান নিয়ম ভাঙলেই নেওয়া হচ্ছে আইনি পদক্ষেপ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে এ পর্যন্ত মোট ৫,২৯৯টি ধর্মীয় স্থান থেকে বেআইনি বা নিয়মবহির্ভূত লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪,২০২৩টি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দির রয়েছে।
অপসারিত মাইকের সংখ্যায় পার্থক্যের কারণে একপেশে ব্যবস্থার যে অভিযোগ উঠছে, সে প্রসঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানান, লাউডস্পিকার অপসারণের সিদ্ধান্ত কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে শব্দের ডেসিবল মাত্রা এবং আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই করা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে যে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা উপাসনায় বাধা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। তবে শব্দদূষণ রোধে ২০২০ সালে হাই কোর্টের দেওয়া রায় কঠোরভাবে মেনে চলাই প্রশাসনের আইনি দায়বদ্ধতা। সেখানে মন্দির বা মসজিদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই; যেসব জায়গায় নিয়ম না মেনে বা অনুমোদন ছাড়া মাইক বাজানো হচ্ছিল, পুলিশ শুধু সেগুলিই সরিয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, জেলায় জেলায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত করা হচ্ছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা মিলছে। রাজ্য প্রশাসন আরও জানিয়েছে, শুধু উপাসনালয় নয়, আগামী দিনে সামাজিক উৎসব বা অনুষ্ঠানেও শব্দবিধি অমান্য করে সাউন্ড বক্স কিংবা ডিজে বাজালে সমভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পূর্ণ আইনি একটি পদক্ষেপকে অযথা ধর্মীয় বা রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।