জেন-জি’কে অন্ধবিশ্বাস করি, তবে সংঘাতের কারণ অজানা: মোহন ভাগবত

বর্তমান তরুণ প্রজন্ম তথা ‘জেন-জি’র ওপর তাঁর ‘অন্ধ বিশ্বাস’ রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে সম্প্রতি দিল্লির যন্ত মন্তরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন অভিযান ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও মন্তব্য করেন।
মোহন ভাগবত বলেন, “আমি জেন-জি-কে অন্ধভাবে বিশ্বাস করি। তরুণদের উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, আগের প্রজন্মের মানুষরা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তুলতে দ্বিধা করত, কিন্তু জেন-জি এবং জেন-আলফা যুক্তি ও সহানুভূতির সাথে প্রশ্ন তোলে। গণতন্ত্রে আলোচনা ও সংলাপে পৌঁছানোর একটি অন্যতম পথ হলো প্রতিবাদ। তবে প্রতিবাদ যেন কেবল বিরোধিতার খাতিরে না হয়ে ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।
বিক্ষোভকারী তরুণদের প্রায়শই ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও মুখ খোলেন আরএসএস প্রধান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “মানুষ নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামলেই সেই বিক্ষোভ ‘দেশবিরোধী’ হয়ে যায় না।” তরুণদের কথা শোনা ও তাঁদের অনুভূতি বোঝা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের প্রজন্মই সবচেয়ে সৎ।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস বা পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে কোনো পক্ষ নিয়েই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু অসামাজিক গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থায়ন নিয়েও নিজের মতামত জানান ভাগবত। তিনি বলেন, শিক্ষাকে কখনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যবসায় পরিণত করা উচিত নয়। জাতীয় বাজেটের ৬ শতাংশ শিক্ষার জন্য বরাদ্দ করার দীর্ঘদিনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সমগ্র সমাজের যৌথ দায়িত্ব। Teachers’ training এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সব পক্ষকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।