তৃণমূল ছেড়ে NCPI, এবার NDA-তেও না! মুর্শিদাবাদের ৩ বিদ্রোহী MP-র পাখির চোখ কি তবে পুরনো ঘর?

নয়াদিল্লি: রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন নাটকের সূচনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে সদ্য গঠিত ‘NCPI’-তে যোগ দিলেও, এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA জোটে শামিল হতে স্পষ্ট নারাজ মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ—আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসূফ পাঠান। দিল্লির রাজনীতিতে এই তিন সাংসদের অবস্থান নিয়ে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
📌 ঠিক কী করছেন এই তিন সাংসদ?
দিল্লিতে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন এই তিন বিদ্রোহী সাংসদ। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরা দূরত্ব বজায় রেখে কেবল এলাকার প্রশাসনিক এবং উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়েই যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি মসজিদের লাউডস্পিকার অপসারণ, ভোটার তালিকা সংস্কার এবং স্থানীয় সমস্যার মতো বিষয় নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখাও করেন।
জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান অবশ্য এই বিষয়ে ধোঁয়াশা রেখে জানান, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নির্দিষ্ট দু’টি বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, এর বাইরে অন্য কিছু নিয়ে মন্তব্য করব না।” অর্থাৎ রাজনৈতিক জোটের চেয়ে নিজেদের কেন্দ্রের সমস্যা সমাধানকেই তাঁরা অগ্রাধিকার দিতে চান।
📊 কেন এই কৌশল? সংখ্যালঘু সমীকরণই কি মূল কারণ?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), ইউসূফ পাঠান (বহরমপুর) এবং আবু তাহের খানের (মুর্শিদাবাদ) এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে রয়েছে মুর্শিদাবাদের বিশেষ জনসংখ্যাগত সমীকরণ।
- ভোটারদের ক্ষোভের ভয়: অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রকাশ্যে বিজেপি বা NDA-কে সমর্থন করলে স্থানীয় তৃণমূল স্তর থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন।
- NCPI-তেও ভাঙন? ২০ জন সাংসদের দল NCPI-এর সিদ্ধান্ত অমান্য করে এই তিন জনের আলাদা অবস্থান দলটির অন্দরেও বড়সড় বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
🔮 ভবিষ্যতের সমীকরণ
বিজেপি যেখানে দলছুট নেতাদের নিজেদের দিকে টেনে শক্তি বাড়াতে চায়, সেখানে এই ৩ সাংসদ কোনো রাজনৈতিক জোটে আবদ্ধ না থেকে নিজ এলাকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন জোর চর্চা—মোহভঙ্গের পর এই তিন বিদ্রোহী সাংসদ কি তবে পুনরায় তৃণমূলেই ফেরার পথ খুঁজছেন? আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের এই আসনগুলির সমীকরণ রাজ্যের মূল রাজনীতিতে অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে চলেছে।