“দশক ধরে চলা ব্যবসা হঠাৎ বন্ধ করা যায় না”— FSSAI-কে ধাক্কা দিয়ে ডাবরকে স্বস্তি দিল হাইকোর্ট

“দশক ধরে চলা ব্যবসা হঠাৎ বন্ধ করা যায় না”— FSSAI-কে ধাক্কা দিয়ে ডাবরকে স্বস্তি দিল হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘১০০% পিওর’, ‘১০০% ন্যাচারাল’ কিংবা ‘১০০% অর্গানিক’— পণ্যের লেবেলে এই ধরনের দাবি করাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মানক কর্তৃপক্ষ (FSSAI)-এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বড়সড় স্বস্তি পেল ডাবর ইন্ডিয়া (Dabur India)। সম্প্রতি এফএসএসএআই ডাবরের একাধিক পণ্যের বিক্রি ও প্রচার বন্ধের যে নির্দেশ দিয়েছিল, শুক্রবার তাতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, সংস্থাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কেন এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ৩ আগস্ট এফএসএসএআই একটি নির্দেশে জানায়, ‘১০০ শতাংশ খাঁটি বা প্রাকৃতিক’ দাবি করা ডাবরের মধু, ঘি-সহ একাধিক জনপ্রিয় পণ্য খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করছে। এরপর সংস্থাটিকে ওই সমস্ত পণ্যের বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেই নির্দেশ সোশ্যাল মিডিয়া ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিতে ছড়িয়ে পড়ায় বাণিজ্যিক ধাক্কার মুখে পড়ে ডাবর। এফএসএসএআই-এর এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ডাবর ইন্ডিয়া।

ডাবরের আইনি যুক্তি: আদালতে ডাবরের প্রবীণ আইনজীবী দাবি করেন, এফএসএসএআই কোনো আগাম ‘শো-কজ’ (কারণ দর্শানো) বা ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিশ’ না দিয়েই এই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা ও মানক (বিজ্ঞাপন ও দাবি) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, কোনো খাদ্য উৎপাদনকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাঁদের বক্তব্য জানা এবং শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এফএসএসএআই সেই নিয়ম মানেনি। এর ফলে বাজারে ইতিমধ্যেই থাকা পণ্য তুলে নেওয়ার বা পুনঃপ্যাকেজিংয়ের মতো মারাত্মক বাণিজ্যিক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে ডাবরকে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি অমিত মহাজন পর্যবেক্ষণ করেন, ডাবর বহু দশক ধরে এই পণ্যগুলি বাজারে বিক্রি করে আসছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়— সংস্থাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিয়ে এমন নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হয়নি। বিচারপতি মন্তব্য করেন, “ওরা কয়েক দশক ধরে এই পণ্যগুলো বিক্রি করে আসছে, হঠাৎ করে একদিনে তা বন্ধ করে দেওয়া যায় না।”

কেন্দ্র ও এফএসএসএআই-এর অবস্থান: অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবী এফএসএসএআই-এর পদক্ষেপকে সমর্থন জানান। তাঁর দাবি, ডাবরকে এর আগেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। ‘১০০ শতাংশ খাঁটি’ ধরনের দাবি সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে। তবে ডাবরের পাল্টা দাবি, তাদের প্যাকেজিংয়ের ঠিক কোন জায়গায় নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে, তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করেনি এফএসএসএআই।

আদালতের নির্দেশ: আপাতত দিল্লি হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের ফলে ৩ আগস্টের এফএসএসএআই-এর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। আদালত কেন্দ্র, এফএসএসএআই এবং মামলার অন্যান্য পক্ষকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *