নাবালকদের ‘সাবালক’ সাজিয়ে রক্ত বিক্রি! দুর্গাপুরে গ্রেপ্তার ৩, হেফাজত ৫ দিনের
দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে স্কুলপড়ুয়া নাবালকদের ফুসলিয়ে টাকার বিনিময়ে রক্ত বিক্রির চক্রের পর্দাফাঁস হলো। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অমিত প্রসাদ, দেবপ্রিয় চক্রবর্তী ও হাবিবুল্লাহ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগ, দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের একটি নামী স্কুলের নাবালক ছাত্রদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্ত দিতে নিয়ে যাওয়া হতো। বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে একটি হোটেলে বসে এই পুরো চক্রটি চালাত ধৃত ওই তিনজন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছর না হলে রক্তদান করা যায় না এবং রক্তের বিনিময়ে নগদ টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু সব নিয়ম তোয়াক্কা না করে এই চক্রটি ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে নাবালকদের কাগজে-কলমে ‘সাবালক’ সাজিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেত এবং তাদের রক্ত নিয়ে টাকা দেওয়া হতো।
ঘটনাটি কীভাবে সামনে এলো? পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা দেবযানী বোসের। স্কুলের কিছু ছাত্রের গতিবিধি দেখে তাঁর সন্দেহ হলে, তিনি তাদের অভিভাবকদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখনই জানা যায় মারাত্মক এই জালিয়াতির কথা। এর পরপরই অভিভাবকরা দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
যদিও পুরো বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের নথিপত্র অনুযায়ী রক্তদাতাদের বয়স ১৮ বছরের উপরেই ছিল। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে অনিয়ম রুখতে স্বাস্থ্য দফতর তল্লাশি চালাচ্ছে, তার মধ্যেই দুর্গাপুরের এই ঘটনা বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।