‘হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মাইক!’— নবান্নের আড্ডায় শুভেন্দুর মুখে পুরনো স্মৃতি, প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিরহাদ

‘হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মাইক!’— নবান্নের আড্ডায় শুভেন্দুর মুখে পুরনো স্মৃতি, প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিরহাদ

জন্মলগ্ন থেকেই যিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য এবং মমতার একনিষ্ঠ অনুগত সৈনিক— সেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী আজ গেরুয়া শিবিরের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে শুভেন্দু সামলেছিলেন রাজ্যের পরিবহন, সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক। তবে সম্প্রতি নবান্নে বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে আসা ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ রায়ের মতো তাঁর এককালের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরাও।

বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু প্রশাসনিক হলেও, আবহ দ্রুতই রূপ নেয় আন্তরিক আড্ডায়। পুরনো সহকর্মীদের পেয়ে স্মৃতিচারণায় মগ্ন হয়ে পড়েন শুভেন্দু। প্রয়াত প্রবীণ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, একসময় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কতটা খোলামেলা আলোচনা হতো।

এই আড্ডার মাঝেই শুভেন্দু তুলে ধরেন তাঁর তৃণমূল ছাড়ার নেপথ্য কারণ। তিনি জানান, ২০১১ সালের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎই তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে অন্য একজনকে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন দলের ভেতরের পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি দলে ‘ভাইপো রাজ’ শুরু হওয়াকেও দলত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তোপ দাগেন তিনি।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এই বৈঠকের পর বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিম শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করেন। আপ্যায়নেও কোনো ত্রুটি ছিল না— ফিশ রোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ ও ব্ল্যাক কফিতে জমাটি অতিথি সেবা উপভোগ করেন বিধায়করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *