ইপিএফ নিয়মে বিরাট বদল: চাকরি ছাড়লেই আর মিলবে না পুরো টাকা? গুণতে হবে ১২ মাসের অপেক্ষা!

ইপিএফ নিয়মে বিরাট বদল: চাকরি ছাড়লেই আর মিলবে না পুরো টাকা? গুণতে হবে ১২ মাসের অপেক্ষা!

কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫২ সালের পুরোনো প্রভিডেন্ট ফান্ড আইন বদলে নতুন ‘এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম, ২০২৬’ চালুর কথা ঘোষণা করেছে। এই নতুন স্কিমে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা রাখা, আংশিক প্রয়োজন এবং চাকরি ছাড়ার পর পুরো টাকা তোলার ক্ষেত্রে আনা হয়েছে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন।

কত টাকা জমা দিতে হবে?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয়েই কর্মচারীর বেসিক বেতনের ১২% হারে ইপিএফ-এ জমা দেবেন। বর্তমানে মূল বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা ধরা হয়েছে, ফলে কর্মী ও সংস্থা উভয়কেই মাসে অন্তত ১,৮০০ টাকা করে দিতে হয়।

  • যাদের বেতন ১৫,০০০ টাকার বেশি, তারা চাইলে স্বেচ্ছায় নিজের অংশের অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে পারেন।
  • তবে কর্মচারীর সেই অতিরিক্ত অবদানের সমপরিমাণ টাকা নিয়োগকর্তা বা কো ম্পা নি দিতে বাধ্য নয়।
  • কর্মী চাইলেই যেকোনো সময় তার এই অতিরিক্ত অর্থ জমার পরিমাণ কমাতে বা বন্ধ করতে পারবেন।

আংশিক টাকা তোলা এখন আরও সহজ

আগে আংশিক টাকা তোলার জন্য ১৩টি জটিল নিয়ম ছিল। নতুন স্কিমে তা কমিয়ে মাত্র ৩টি বিভাগে আনা হয়েছে। তবে শর্ত হলো, টাকা তোলার পরেও প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমাকৃত মোট অর্থ ও সুদের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ ব্যালেন্স রাখা বাধ্যতামূলক। সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা তোলার সুযোগ রেখে বাকি যোগ্য অর্থ সদস্য তুলে নিতে পারবেন।

  • স্বাস্থ্য: ১২ মাস চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হলেই ১০০% পর্যন্ত তোলা যাবে।
  • শিক্ষা ও বিবাহ: শিক্ষার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ বার এবং বিয়ের জন্য ৫ বার আংশিক অর্থ তোলা সম্ভব।
  • বাড়ি বা আবাসন: ১২ মাসের সদস্যপদ থাকলে বাড়ি কেনা, নির্মাণ, হোম লোন শোধ বা সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বার অর্থ তোলা যাবে।

চাকরি ছাড়ার পর ১২ মাস বেকার থাকা বাধ্যতামূলক

নতুন নিয়মে চাকরি ছাড়ার সাথে সাথেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের পুরো টাকা আর তুলে নেওয়া যাবে না। চাকরি ছাড়ার পর একটানা ১২ মাস বেকার থাকলে তবেই সম্পূর্ণ টাকা তোলার আবেদন জানানো যাবে।

ব্যতিক্রম ও বিশেষ ছাড়:

  • বিয়ের কারণে চাকরি ছাড়া নারী কর্মীদের জন্য এই ১২ মাসের নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
  • এছাড়া ৫৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ, সম্পূর্ণ শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়া, স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যাওয়া, বড় আকারের ছাঁটাই কিংবা পারস্পরিক সম্মতিতে নেওয়া স্বেচ্ছাবসরের (VRS) ক্ষেত্রে সাথে সাথেই পুরো টাকা তোলার সুযোগ বহাল থাকবে।

নতুন নিয়ম কতটা লাভজনক?

সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করা এবং টাকা তোলার প্রক্রিয়াকে সহজ করা। আংশিক উত্তোলনের নিয়ম কমে যাওয়ায় কাগজের ঝক্কি কমবে। অন্যদিকে অ্যাকাউন্টে ২৫% ব্যালেন্স রাখার বাধ্যবাধকতা অবসরের পর কর্মীদের এককালীন বড় আর্থিক সাহায্য দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *