শ্রীবিষ্ণুর চোখ উপড়ানোর সিদ্ধান্ত! নেপথ্যে মহাদেব ও সুদর্শন চক্রের পৌরাণিক রহস্য

তিনি জগতের পালনকর্তা, শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী ভগবান শ্রীমন্নারায়ণ। কিন্তু এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে এবং সৃষ্টি রক্ষায় তাঁকেও একসময় দেবাদিদেব মহাদেবের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। নিজের একটি চোখ উপড়ে মহাদেবকে নিবেদন করতে উদ্যত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেন এমন চরম পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল নারায়ণকে? কীভাবে তাঁর হাতে এসেছিল মহাজাগতিক অস্ত্র ‘সুদর্শন চক্র’?
অসুরদের তাণ্ডব ও বিষ্ণুর সংকল্প
পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, একদা স্বর্গে ও মর্ত্যে রাক্ষসদের অত্যাচার সীমাহীন হয়ে ওঠে। দেবতা থেকে শুরু করে সাধারণ প্রজা—সকলেই অসুরদের ভয়ে ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এই ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে ত্রাণ পেতে দেবতারা নারায়ণের শরণাপন্ন হন। কিন্তু ওই পরাক্রমশালী দানবদের পরাস্ত করতে প্রয়োজন ছিল এক পরম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্রের, যা একমাত্র দেবাদিদেব মহাদেবের কাছেই বিদ্যমান ছিল।
১০০০ পদ্ম ও মহাদেবের ছলনা
জগৎ সংসারের শান্তির স্বার্থে শ্রীবিষ্ণু কৈলাস পর্বতে গিয়ে দেবাদিদেবের কঠোর তপস্যায় মগ্ন হন। স্থির হয়, তিনি মহাদেবের ১০০০টি নাম জপ করবেন এবং প্রতিটি নামের সাথে একটি করে পদ্মফুল দেবাদিদেবের চরণে অর্পণ করবেন।
তবে ভক্তের ভক্তির গভীরতা পরীক্ষা করতে মহাদেব ধ্যানের মাঝেই লুকিয়ে একটি পদ্মফুল সরিয়ে ফেলেন। জপ শেষে ৯৯৯টি নাম উচ্চারণের পর বিষ্ণু দেখেন, শেষ ১০০০তম পদ্মটি গায়েব! এদিকে শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী পুজো শুরু করলে তা আসাম্পূর্ণ রাখা শাস্ত্রবিরুদ্ধ।
পদ্ম-আঁখি নিবেদন ও মহাদেবের বর
উপায় না দেখে কমলায়ন শ্রীবিষ্ণু নিজের পদ্মের মতো সুন্দর চোখকেই পদ্ম হিসেবে নিবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। সৃষ্টি রক্ষার তাগিদে তিনি এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে নিজের একটি চোখ উপড়ে ফেলতে উদ্যত হন। নারায়ণের এই অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ ও ভক্তি দেখে স্বয়ং মহাদেব আবির্ভূত হন।
তিনি নারায়ণের হাত ধরে নেন, সরিয়ে রাখা পদ্মটি ফিরিয়ে দেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বিষ্ণুর চোখ পূর্বের ন্যায় সুস্থ করে তোলেন। নারায়ণের এই পরম ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দেবাদিদেব তাঁকে মহাজাগতিক শক্তির প্রতীক ‘সুদর্শন চক্র’ প্রদান করেন। পরবর্তীকালে এই দিব্যাস্ত্র ব্যবহার করেই নারায়ণ অসুরকুল ধ্বংস করে মহাবিশ্বে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন শান্তি ও ধর্ম।