অ্যাম্বুল্যান্সের হেল্পার থেকে কোটিপতি বিধায়ক: তোলাবাজি ও জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার সনৎ দে!

রূপোলি পর্দার নাটकीय মোড়কেও যেন হার মানায় তাঁর জীবনকথা। একসময় ছিলেন সাধারণ এক অ্যাম্বুল্যান্সের হেল্পার। সেখান থেকে ক্ষমতার দাপটে কোটিপতি বিধায়ক হয়ে ওঠা! কিন্তু অপকর্মের সেই ‘সাম্রাজ্য’ আর টিকিয়ে রাখতে পারলেন না নৈহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। তোলাবাজি, জালিয়াতি এবং নির্বাচন-পরবর্তী হিংসাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবারই তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার কথা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকাতে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী হিসেবেই সনতের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে তৎকালীন বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ ও অত্যন্ত ভরসাযোগ্য পাত্র হয়ে ওঠার পরেই তাঁর ভাগ্য বদলে যায়। ২০২১ সালে পান নৈহাটি যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ, পরবর্তীতে হন পুরসভার কাউন্সিলর। এরপর ২০২৪ সালে পার্থ ভৌমিক সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলে, নৈহাটি উপনির্বাচনে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় ‘ছায়াসঙ্গী’ সনৎকেই। বিধায়ক হওয়ার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও দল তাঁর ওপরই আস্থা রাখে। ক্রীড়াক্ষেত্রে কিছু উন্নতির জন্য স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে তাঁর সামান্য সুনাম থাকলেও, সেই আড়াল বেশিদিন টেকেনি।
উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকাশ পেতে থাকে সনতের জালিয়াতির সাম্রাজ্য। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পত্তি তৈরি ও প্রকাশ্যে তোলাবাজির ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসাতেও জড়ায় তাঁর নাম। এমনকি প্রাক্তন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং তাঁর বিরুদ্ধে নকল ওষুধ বিক্রির মতো মারাত্মক অভিযোগ আনেন। এতদিন ক্ষমতার অলিন্দে থাকায় পুলিশ হাত না দিলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই সনতের বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে।
‘২৬-এর নির্বাচনের পর নিজের এলাকায় দলীয় কার্যালয় খুলতে গিয়ে চরম গণরোষের মুখে পড়েন সনৎ দে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগানে এলাকা উত্তপ্ত করে তোলেন। জনরোষ ও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। অবশেষে শুক্রবার রাতে দত্তপুকুর থেকে ধরা পড়ে তাঁর স্থান হলো শ্রীঘরে।