পাক শৃঙ্খল ভেঙে ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ডাক, নজিরবিহীন কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ বালোচিস্তানে!

পাকিস্তানের শাসনকে অস্বীকার করে আগামী ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালনের ঘোষণা করেছে বালোচিস্তান। দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে উঠেছে পাক প্রশাসন। বালোচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গোটা এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান। বালোচ লিবারেশন আর্মির পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জানানো হয়েছে, দখলদার বাহিনীর কোনো দমনপীড়ন বা বেআইনি নির্দেশ বালোচ জনতা মানব না এবং নির্ধারিত দিনে ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বালোচিস্তান। পরবর্তীকালে পাক শক্তির আগ্রাসনে সেই স্বাধীনতা হারিয়ে গেলেও দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বালোচ লিবারেশন আর্মি এবার খনিজ সমৃদ্ধ এই প্রদেশকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর কেন্দ্র করে বালোচিস্তানের উপর নির্যাতন ও সম্পদ লুণ্ঠনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করায় ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বালোচিস্তানের এই স্বাধীনতা ঘোষণা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে চরম উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে, যা ১৯৭১ সালের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।