“প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলা বিজেপির সংস্কৃতি নয়!”— মমতার কনভয়ে পাথরবৃষ্টির ঘটনায় তীব্র সাফাই শমীক-অর্জুনদের

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কনভয় লক্ষ্য করে কাদা, পাথর এমনকি চপ্পল ছোড়ার অভিযোগ উঠলেও, বিজেপি এতে তাদের যেকোনো ভূমিকা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
🛑 “আমরা এমন হামলা সমর্থন করি না”— একসুরে বিজেপি নেতৃত্ব
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো মহিলা নেত্রীর গাড়িতে আক্রমণ করা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। দল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছে।
একই সুর শোনা গেছে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং-এর গলাতেও। তিনি বলেন:
“আমাদের দল এই ধরনের হামলা সমর্থন করে না। সেখানে বিজেপির কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না। আসলে তৃণমূলের জমানায় যেসব সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি লুট হয়েছিল, এটি তাঁদের জমে থাকা ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাটিকে স্থানীয় মানুষের “প্রবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ” বলে বর্ণনা করেছেন। বিজেপির সজল ঘোষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জেড-প্লাস (Z+) নিরাপত্তা পাওয়া একজন ব্যক্তিত্ব কোথাও গেলে পুলিশকে আগাম জানানো উচিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
⚠️ ঠিক কী ঘটেছিল বীজপুরে?
গত শনিবার পুলিশ হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। রবিবার মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেই সময়ই স্থানীয় বাসিন্দারা হাতকাটা পতাকাহীন অবস্থায় তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে ‘গো ব্যাক’ ও ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোদিন এই এলাকার খোঁজ নেননি।
💣 ‘হত্যার চেষ্টা!’— বিজেপির দিকে আঙুল তৃণমূলের
ঘটনার পর থেকেই সুর চড়িয়েছে শাসকদল। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এই হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং ঘটনাস্থলে বহু বিজেপি কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এমনকি পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে দাবি করে এটিকে ‘হত্যার চক্রান্ত’ বলেও তোপ দাগেন তিনি।
শাসক ও বিরোধীদের এই টানাপোড়েনে বীজপুর ছাড়িয়ে পুরো রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এখন চরম উত্তপ্ত।