“এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়, অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না”— মেদিনীপুরের স্বাস্থ্যকর্মীর চাকরি বিতর্কে সরব শারদ্বত

এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার কারণে চাকরি খোয়াতে হলো পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল সরকারি হাসপাতালের এক অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীকে। সুবিচারের আশায় তিনি ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং স্বাস্থ্য ভবনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সরাসরি হাসপাতালের সুপারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই কর্মী। তবে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, এই ধরনের বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: “এইচআইভি আক্রান্ত কাউকে স্পর্শ করলে বা জড়িয়ে ধরলে রোগ ছড়ায় না। সামাজিক বয়কট সম্পূর্ণ অন্যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঘাটালের ওই ঘটনার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঠিক কী ঘটেছে?
- দীর্ঘদিনের কর্মজীবন: আক্রান্ত কর্মীর দাবি, তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ওই হাসপাতালে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁকে ওয়ার্ডে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- বিতর্কের সূত্রপাত: ২০২৪ সালে রাজ্য সরকার অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রোষানলে পড়েন তিনি।
- ফিট সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও বাধা: ২০০৭ সালে তিনি এইচআইভি পজিটিভ চিহ্নিত হন এবং নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। রোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কাজ করার উপযুক্ত—মেডিক্যাল অফিসার সেই ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া সত্ত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তাঁকে হাসপাতালে আসতে বারণ করে দেওয়া হয়।
- আর্থিক বঞ্চনা: অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করানো সত্ত্বেও তাঁকে মাত্র ৬০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফাই
হাসপাতালের সুপার মহেশ্বর মান্ডি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো রিপোর্টে তিনি জানান:
- ওই কর্মী ১৯৯৬ সাল থেকে কাজ করছেন—এই দাবি সত্যি নয়। তিনি ২০১৬-১৭ সাল থেকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন।
- হাসপাতালে আরও অনেক এইচআইভি আক্রান্ত কর্মী কাজ করছেন, কাউকেই বারণ করা হয়নি।
- সুপার কাউকে বের করে দেননি, ওই কর্মী নিজেই কাজে আসা বন্ধ করেছেন এবং এখন স্থায়ীকরণের দাবি করছেন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে তদন্ত চলছে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।