‘অরুণাচল ভারতেরই ছিল, আছে আর থাকবে!’ চিনের নামকরণের চালাকি উড়িয়ে কড়া বার্তা দিল্লির

অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক স্থানের ভারতীয় নামকরণে চিনের আপত্তিতে জল ঢেলে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি। চিনের সেই দাবি একবাক্যে খারিজ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে— অরুণাচল প্রদেশ ভারতের ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচলকে ‘জংনান’ বলে দাবি করে সেখানকার বিভিন্ন জায়গার চিনা নাম চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করে আসছে বেজিং। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া চিনের এই একতরফা পদক্ষেপের জবাবে সম্প্রতি ভারত ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’-র সরকারি মানচিত্রে অরুণাচলের ২৭টি কৌশলগত স্থানকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, চিনের মনগড়া নাম চাপানোর কৌশল পুরোপুরি অবাস্তব ও হাস্যকর।
যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে:
- ঐতিহাসিক লংজু (Longju): সুবানসিরি জেলার এই সীমান্ত গ্রামটি ১৯৫৯ সালে ভারত-চিন প্রথম সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। চিনের দখলে থাকলেও ভারত এটিকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই গণ্য করে।
- সীমান্ত গ্রাম ও গিরিপথ: সুবানসিরির লংজু, মাজা ও বিসা নামের তিনটি গ্রাম ছাড়াও ম্যাকমোহন লাইন বরাবর অবস্থিত জোলা, রিজালা ও পুকুর লা-র মতো গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথ।
- ঐতিহাসিক যুদ্ধক্ষেত্র: ১৯৬২ সালের যুদ্ধের অন্যতম রণক্ষেত্র তাওয়াং সীমান্তের ‘থাগ লা’ গিরিপথ।
নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্য দেশের ভূখণ্ডে নিজেদের মনগড়া নাম বসিয়ে সত্য বদল করা যাবে না। চিনের এই ধরনের অহেতুক উসকানি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করবে।