ভোটার তালিকায় ‘নাম বাদ’! থমকে নিট ও সরকারি চাকরি, হাইকোর্টের জরুরি নির্দেশে স্বস্তি

কলকাতা: ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে আচমকা নাম বাদ পড়ায় বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের দুই তরুণ-তরুণী। এক চিকিৎসাপ্রার্থীর নিট (NEET) কাউন্সেলিং থমকে যাওয়ার জোগাড়, তো অন্যদিকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাশ করেও সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না এক যুবক। এই দুই পৃথক মামলায় মঙ্গলবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সংশ্লিষ্ট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালকে আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এই আবেদনগুলি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রথম মামলাটির শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও গোপা বিশ্বাস আদালতে জানান, আগামী ১৩ আগস্ট নিটের কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র গ্রহণ করতে চাইছে না। কাউন্সেলিংয়ের আগে এই সমস্যার সমাধান না হলে তরুণ চিকিৎসাপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিচারপতি নির্দেশ দেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর সম্ভব হলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালকে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হবে।
দ্বিতীয় মামলাটির গুরুত্বও কম নয়। মামলাকারী মহম্মদ হাবিবুল্লা রাজস্ব দফতরের ‘গ্রুপ-সি’ পদের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে নিয়োগপত্র পেয়েও চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না। গত ৭ এপ্রিল তিনি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও তা এতদিন ধরে অমীমাংসিত হয়ে রয়েছে। এই মামলায় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের নির্দেশের কপি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে এই আপিলের আইনি নিষ্পত্তি করতেই হবে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলাগুলির নিষ্পত্তি নিয়েও একই দিনে কঠোর ভূমিকা নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত কতগুলি আপিলের রায় দেওয়া হয়েছে এবং তার বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “শুধু আপিল জমা পড়লেই হবে না, সেগুলির কী পরিণতি হচ্ছে তাও দেখতে হবে।” তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের কারণে সামাজিক সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলির বিচার পৃথকভাবে কলকাতা হাইকোর্টেই হতে হবে।