‘CV পাঠান, চাকরি আমরা দেব!’ বাঁকিপুরে জয়ের পরেই বেকারত্ব দূর করতে বড় মাস্টারপ্ল্যান পিকের

কলকাতা: পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ আধিপত্য ভেঙে ইতিহাস গড়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। আর নির্বাচনে জয়লাভের পরেই এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নেমে পড়লেন তিনি। আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে বাঁকিপুরের অন্তত ১০ হাজার পরিবারের সন্তানকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন পিকে। আর সেই কারণেই যোগ্য প্রার্থীদের নিজের অফিসে CV বা বায়োডেটা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জয়ের পর প্রথমবারের মতো বাঁকিপুরে পৌঁছে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান প্রশান্ত কিশোর। সেখানে এক জনসভায় নিজের এই মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন তিনি।
কী বললেন প্রশান্ত কিশোর?
- বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরি: পিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তিনি কোনও সরকারি চাকরির আশ্বাস দিচ্ছেন না। দেশের বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী ও সংস্থার সঙ্গে তাঁর যে যোগাযোগ রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়েই যোগ্য যুবক-যুবতীদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
- রাজ্যের বাইরেও কাজের সুযোগ: প্রশান্ত জানান, প্রাথমিকভাবে এই কর্মসংস্থান বিহারে নাও হতে পারে। দেশের অন্যান্য রাজ্যে থাকা কাজের সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রথম ধাপে যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
- জন সুরাজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে জন সুরাজ পার্টি বিহারে ক্ষমতায় এলে রাজ্যভিত্তিক কাজের চিত্রটা আরও বড় পরিসরে বদলানো হবে।
“আমি কোথাও যাচ্ছি না, এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নের জন্যই এখানে রয়েছি।” — প্রশান্ত কিশোর (ভোটারদের উদ্দেশ্যে)
বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ছারখার
গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি বাঁকিপুরে বিপুল ভোটে জয়ী হন প্রশান্ত কিশোর। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৯,৩২৪ ভোটে পরাজিত করেন। পিকে পান মোট ৬৪,১৫১টি ভোট, যেখানে বিজেপি প্রার্থী পান ৪৪,৮২৭টি ভোট। অন্যদিকে আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা মাত্র ১৪,২৭৩টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকেন। ৩২ দফার ভোটগণনার ১৫তম দফাতেই পিকের জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়।
আগামী দিনের রোডম্যাপ
জয়ের পরপরই বাঁকিপুরের আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তবে তিনি সতর্ক করে এও বলেন, “বিধায়ক নির্বাচিত হলেই রাতারাতি বাঁকিপুরকে বেঙ্গালুরু বানিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, উন্নয়ন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।”
তিনি জানান, আপাতত চাকরি, মানসম্মত শিক্ষা, বয়স্কদের জন্য মাসে ১,১০০ টাকা পেনশন এবং সঠিক রেশন বণ্টন— এই ৪টি মূল বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করছেন তিনি। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই বাঁকিপুরে পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখা যাবে বলে তিনি দাবি করেন।