“২০১৯-এর হারের রাগ ঝেড়েছেন ২০২১ থেকে!” বাঁকুড়া থেকে মমতাকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

“২০১৯-এর হারের রাগ ঝেড়েছেন ২০২১ থেকে!” বাঁকুড়া থেকে মমতাকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বাঁকুড়া: পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত ৭টি জেলার আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনায় যোগ দিতে মঙ্গলবার বাঁকুড়া সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমসহ মোট ৭টি জেলার গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের মূল দায়িত্বে রয়েছে এই পর্ষদ।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এদিনের বৈঠক থেকে নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক রূপরেখা স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিগত সরকারকে নিশানা ও বঞ্চনার অভিযোগ

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,

“আমাদের রাজ্যে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষভাবে ৩টি দফতর তৈরি করা হয়েছিল। এর অধীনে মোট ৭৬টি ব্লকে সামাজিক, জীবিকা এবং বিশেষ করে SC-ST সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।”

এর পরেই নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি যোগ করেন, “২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে (পশ্চিমাঞ্চলে) বিরোধী দল ভালো ফল করায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর রাগ এসে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তার মাশুল হিসেবেই ২০২১ সাল থেকে এই অঞ্চলকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। এমনকি এই দফতরের বাজেট মাত্র ২০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল।”

আগামী ৩ মাসের মেগা রোডম্যাপ ও ১৬১০ কোটির বাজেট

রাজ্যের নতুন রূপরেখা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শেই তিনি পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন।

  • নতুন বাজেট: নতুন সরকার এই দফতরের বাজেট বাড়িয়ে ১৬১০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে।
  • লক্ষ্য: পুজোর পর থেকেই অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি অঞ্চলে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
  • অগ্রাধিকার: ICDS সেন্টার, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় এলাকাগুলোতে ফ্যান বসানোর মতো প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা প্রদান।

BDO-দের কড়া বার্তা

কাজের গতি বাড়াতে প্রশাসনিক স্তরেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জঙ্গলমহলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাই পিছিয়ে থাকা এলাকার BDO-দের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশনা, “আপনাদের কাজের জড়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। দ্রুত নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে উঠুন এবং কাজের গতি বাড়ান।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *