মোদী পাঠালেন দ্বিতীয় আমন্ত্রণ: ভারতের ডাকে কি এবার সাড়া দেবেন তারেক রহমান?

মোদী পাঠালেন দ্বিতীয় আমন্ত্রণ: ভারতের ডাকে কি এবার সাড়া দেবেন তারেক রহমান?

ঢাকা ও নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আবারও নয়াদিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘ব্রিকস’ (BRICS) সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। তবে ঢাকা সূত্রে খবর, এবারও হয়তো এই সফর এড়িয়ে যেতে পারেন তারেক রহমান।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকারের এই দ্বিতীয় আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে একটি বড় ভুল হতে পারে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত: কার্নেগি এশিয়ার নন-রেসিডেন্ট স্কলার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. অবিনাশ পালিওয়াল সম্প্রতি এক বার্তায় জানান, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের টানাপড়েন কাটাতে অত্যন্ত আন্তরিক ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পালিওয়ালের মতে, ভারতের এই সুনির্দিষ্ট ও ইতিবাচক হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে আবারও ফিরিয়ে দিলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে কূটনৈতিক জটিলতায় পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত জুনে তারেক রহমান চিন সফর করলেও ভারত সফরের বিষয়ে এখনও নীরব ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খালিলুর রহমান জানিয়েছেন, বিমসটেক (BIMSTEC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবেই মূলত এই আমন্ত্রণ এসেছে, ব্যক্তিগতভাবে নয়। তাই সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

হাসিনা-পরবর্তী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার সুসম্পর্কে কিছুটা শীতলতা তৈরি হয়। এরপর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে বরফ গলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনার কোনও রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের নীতিগত অবস্থানের সংযোগ নেই। পালিওয়ালের মতে, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়; বরং জাতীয় পুনর্মিলন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ঢাকার উচিত দিল্লির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।

এখন দেখার বিষয়, বিমসটেক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লি যান, নাকি আবারও ভারতের আমন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার পথই বেছে নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *