“আমাদের সময়ে কেন ভাগ বসাবে দলত্যাগীরা?” সংসদে বৈষম্যের অভিযোগে গর্জে উঠলেন অভিষেক

“আমাদের সময়ে কেন ভাগ বসাবে দলত্যাগীরা?” সংসদে বৈষম্যের অভিযোগে গর্জে উঠলেন অভিষেক

সংসদে এনসিপি (NCP) সাংসদদের আসন বণ্টন, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন এবং দলত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজ—এই একাধিক বিতর্কিত ইস্যুতে লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলত্যাগী সাংসদদের অযোগ্যতার আবেদন নিস্পত্তি না হলে, তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানাবেন বলেও কড়া হুঙ্কার দিয়েছেন।

আসন বণ্টন ও বক্তব্যের সময়ে বৈষম্যের অভিযোগ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ, তৃণমূল সাংসদদের আসন পরিবর্তন করে ইচ্ছাকৃতভাবে এনডিএ-ঘনিষ্ঠ দলত্যাগী এনসিপি সাংসদদের পাশে বসানো হয়েছে। অথচ সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের এখনও পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে কোনো সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। গত ২২-২৩ জুলাই বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ ও প্রতিমা মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে স্পিকারের কাছে লিখিত ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি।

তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, যদি ওই সাংসদদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতিই না দেওয়া হয়, তবে সংসদে তাঁদের বক্তব্যের সময় কেন তৃণমূলের বরাদ্দ সময় থেকে কেটে নেওয়া হবে? এখনও তাঁদের নাম সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অধীনে দেখানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সংবিধানের ১০ম তফসিল ও স্পিকারকে চরম হুঁশিয়ারি

অভিষেক স্পষ্ট জানান, ওই সাংসদরা জোড়াফুল প্রতীক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে ভোটে জিতেছিলেন। অথচ এখন তাঁরা প্রকাশ্যে এনডিএ-কে সমর্থন করছেন। সংবিধানের ১০ম তফসিল (Anti-Defection Law) অনুযায়ী অবিলম্বে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করা উচিত।

তিনি মনে করিয়ে দেন, গত জুন মাসেই তাঁদের বিরুদ্ধে অযোগ্যতার আবেদন জমা দেওয়া হলেও স্পিকার দুই মাস ধরে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। অভিষেক জানান, অযোগ্যতার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। স্পিকার আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম না মানলে তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরজায় কড়া নাড়বে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন পুনর্বিবেচনার দাবি

পাশাপাশি, বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের বিষয়টিও স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ২০ দিন আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এতে দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *