কন্যাকল্যাণে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: রাজ্যে শুরু ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, বাড়ছে আর্থিক অনুদান!

আজ রাজ্যজুড়ে উদযাপিত হলো ‘কন্যারত্ন দিবস’। এই শুভ উপলক্ষে রাজ্যের ছাত্রীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তার মানোন্নয়নে একাধিক যুগান্তকারী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক উদ্যোগ ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। পাশাপাশি, নারীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও সুরক্ষা দিতে চালু করা হয়েছে ১৮১ হেল্পলাইন পরিষেবা।
এই যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের সরকারি দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে, যা কন্যাদের সুরক্ষা ও শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ মূলতঃ লিঙ্গবৈষম্য দূর করা, মেয়েদের সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং স্কুলছুটের হার কমানোর লক্ষ্যে সচেতনতামূলক একটি বিশ্বস্ত কর্মসূচি।
ছাত্রীদের জন্য মুখ্য সুবিধাসমূহ:
- দ্বিগুণ অনুদান: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রীদের জন্য বর্তমানের ১,০০০ টাকার অনুদান বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হবে।
- বিশাল বাজেট বরাদ্দ: চলতি বছরে ২০ লক্ষেরও বেশি ছাত্রীকে সরাসরি অর্থ সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।
- উচ্চশিক্ষায় বিশেষ সহায়তা: আর্থিক অনটনের কারণে যেন কারও পড়ালেখা না থামে, তাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য এককালীন ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- বিবেকানন্দ স্কলারশিপ ও ১০০ কোটির তহবিল: ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যথারীতি বহাল থাকছে। এছাড়া জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে সফল পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গড়ে তোলা হয়েছে।
লিঙ্গবৈষম্য নির্মূল করে কন্যাসন্তানের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।